শিরোনাম

ঢাকা, ৫ মার্চ ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে বিশ্ববাজারে একটি আধুনিক, টেকসই ও উদ্ভাবনভিত্তিক খাত হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের (বিবিএফ) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য হলো-‘ফ্যাক্টরি নেশন থেকে ইনোভেশন নেশন-বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ২০৩০-এর নতুন রূপকল্প’ শীর্ষক কৌশলগত রূপকল্প বাস্তবায়ন করা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে আধুনিক, দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব শিল্প হিসেবে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে এবং শিল্পের প্রচলিত ধারণায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে উভয় পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে।
বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং বিবিএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, ব্র্যান্ডিং সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান খান মনিরুল আলম (শুভ), প্রচার ও প্রকাশনা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির এবং ট্রেড ফেয়ার অ্যান্ড ইভেন্ট সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এম সাজেদুল করিমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশের পোশাক খাতকে ‘ফ্যাক্টরি নেশন’ থেকে ‘ইনোভেশন নেশন’-এ রূপান্তরের লক্ষ্যে বৈশ্বিক প্রচার ও ব্র্যান্ডিং কৌশল প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া তরুণ উদ্ভাবকদের সম্পৃক্ত করে শিল্পের সমস্যার সমাধানে বিজিএমইএতে একটি বিশেষ ইনোভেশন ল্যাব প্রতিষ্ঠা, শিল্পে মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে একটি বিশেষ লিডারশিপ একাডেমি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া মেধাবী তরুণ উদ্ভাবক ও শিক্ষার্থীদের এই শিল্পে সম্পৃক্ত করতে ইয়ুথ ফেস্ট, ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর কর্মসূচি এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
পরিবেশবান্ধব কারখানার সাফল্য তুলে ধরতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন নলেজ রিপোর্ট ও কেস স্টাডি তৈরি করা হবে।
বৈশ্বিক অবস্থান জোরদারে জাপানি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলোর সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং দুই দেশের ডিজাইনারদের সমন্বয়ে একটি টেকসই বৈশ্বিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কান লায়ন্সের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বিজিএমইএ’র অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিবিএফ কৌশলগত ব্র্যান্ডিং পরামর্শ, জ্ঞান বিনিময় এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বিজিএমইএকে দৃশ্যমান করতে কাজ করবে।
অন্যদিকে, বিজিএমইএ শিল্পসংক্রান্ত তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা দেবে।
দুই বছর মেয়াদি এ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক খাতে বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি বিশ্বমানের উদ্ভাবনী পোশাক হাব হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে বলে উভয় পক্ষই আশা করছে।