শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে মানবাধিকার ও পরিবেশগত সুরক্ষা (এইচআরইডিডি) নিশ্চিতকরণ, কমপ্লায়েন্স সক্ষমতা জোরদার এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ (এএবি) একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বিজিএমইএ’র ‘সাসটেইনেবল স্ট্র্যাটেজিক ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।
আজ রাজধানীর উত্তরাস্থ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র পক্ষে সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। বিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, রুমানা রশীদসহ সংগঠনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় সংস্থা কারখানায় নারী নেতৃত্ব তৈরি করা, সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ, হয়রানি ও বৈষম্যমুক্ত কর্মস্থল গড়ে তোলা এবং শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে যৌথভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সবুজ শিল্পায়ন উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক সুরক্ষা স্কিমে অন্তর্ভুক্তির সহায়তা, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি ডিউ ডিলিজেন্স ডিরেকটিভ (ইইউ সিএসডিডি)সহ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিশেষ পর্যবেক্ষণ টুল ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হবে। মালিক, শ্রমিক ও ক্রেতাদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে স্বচ্ছতা বজায় রাখাও এই অংশীদারিত্বের অন্যতম লক্ষ্য।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন শুধু উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং টেকসই ও নৈতিক ব্যবসার একটি বিশ্বস্ত অংশীদার। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কারখানাগুলোতে মানবাধিকার ও পরিবেশগত মানদণ্ড আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। অ্যাকশনএইডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও মর্যাদা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করলেই এই শিল্পের প্রকৃত সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। সকল অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে স্বচ্ছতা ও মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি টেকসই শিল্প ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, আর বিজিএমইএ তার সদস্য কারখানাগুলোর অবকাঠামো ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করবে।