শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ও ভুটান আজ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতা বৃদ্ধি, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির (পিটিএ) আওতায় পণ্যের পরিধি বাড়ানো এবং একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার চতুর্থ ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ (এফওসি)-এ এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং ভুটানের পররাষ্ট্র সচিব পেমা লেকতুপ দর্জি যৌথভাবে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুরো বিষয় পর্যালোচনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে।
বৈঠকে রাজনৈতিক বিষয়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন, কৃষি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়।
উভয় দেশ বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়াকে দুই দেশের মানুষের জন্য বাস্তব সুফলে পরিণত করার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি দুই সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও নিয়মিত আলোচনা আরও শক্তিশালী করতে একমত হয়।
এ ছাড়া উভয় পক্ষ সংস্কৃতি, পর্যটন, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিক্ষাগত সহযোগিতা, যুব বিনিময় এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
ভুটানের ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (জিএমসি) উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশ সমর্থন ও আগ্রহ প্রকাশ করে এবং টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ ও যৌথ সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানায়।
একই সঙ্গে, এই উদ্যোগের আওতায় পারস্পরিক অর্থবহ সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানে ঢাকা আগ্রহ প্রকাশ করে।
কুড়িগ্রামে ভুটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল(এসইজেড) দ্রুত কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।
বৃহত্তর আঞ্চলিক সংহতি বাস্তবায়নে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এবং বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক)-এর অধীনে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
উভয় পক্ষই চতুর্থ এফওসি-র ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
ফরেন অফিস কনসালটেশনের পরবর্তী বৈঠক উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হবে।