বাসস
  ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৯

খুলনায় ঈদে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় উৎসবমুখর আবহ

ছবি : বাসস

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান

খুলনা, ২৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাওয়া ছুটির সময় খুলনার বিনোদন  কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদের তৃতীয় দিনেও ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা বিভিন্ন স্পটে। ব্যস্ত জীবনের চাপ ভুলে থাকতে নগর ছেড়ে মানুষ ছুটে যাচ্ছে নদীর ধারে কিংবা বিনোদন স্পটে; কেউ কেউ যাচ্ছে সুন্দরবনে। পরিবার-পরিজনের হাসি, শিশুদের উচ্ছ্বাস আর তরুণদের উল্লাসে এসব স্পটগুলোতে তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর আবহ। 

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর বিনোদন কে›ন্দ্রগুলো সাধারণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। উৎসবের দ্বিতীয় দিন থেকেই বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় ভিড় বাড়তে থাকে।

আজ সোমবার ভিড়  লেগে রয়েছে খানজাহান আলী (র.)  সেতু (রূপসা সেতু), শহীদ হাদিস পার্ক, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট, বনবিলাস চিড়িয়াখানা, জাতিসংঘ শিশুপার্ক, দিঘলিয়ার ঈদ মেলা, উল্লাহ পার্ক, খুলনা রিভারভিউ পার্ক, ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক ও সুন্দরবনে। বিশেষ করে ৫ নম্বর ঘাট এলাকা, রূপসা ব্রিজ, পার্ক এবং শহরের বিভিন্ন বিনোদন স্পটগুলোয় ভিড় আর হাজার মানুষের  কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এসব স্থানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা  জোরদার করা হয়েছে।

খুলনার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে  দেখা গেছে, বিনোদন কে›ন্দ্রগুলোর মধ্যে  যেগুলোতে দর্শনীয় ফি এ রাইড ফি বেশি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের  লোকজন সেসব কেন্দ্র এড়িয়ে চললেও একটু মুক্ত হাওয়ায় কিছুটা সময় কাটাতে বিনা টাকার স্থানগুলোতেই  বাড়ছে তাদের ভিড়।

রূপসা, ভৈরবসহ নদী পাড় ও ফাঁকা জায়গাগুলো একেকটি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। খুলনার ৬ ও ৭ নম্বর ঘাটকেন্দ্রিক ভৈরব নদের তীরে অনেকদিন ধরেই ছুটির দিবস কেন্দ্রিক বিনোদন  কেন্দ্রে পরিণত হয়। এছাড়া উৎসবের বাইরেও  যে কোন ছুটির দিনে সেখানে জনসমাগম চলে।

নগরীর আর একটি বিনোদনকেন্দ্র রূপসা সেতুর দু’পাড়। ঈদের ছুটিতে  সেখানেও দেখা যায় ব্যাপক ভিড়। কেউ পরিবারসহ আবার কেউ বন্ধু-বান্ধবসহ ঘুরতে যানন  সেখানে।

বিনোদনকেন্দ্রের আর একটি স্পট হচ্ছে রূপসা তীরের খুলনার রিভারভিউ পার্ক।  যেটি আগে ছিল শেখ রাসেল ইকো পার্ক। খুলনা জেলা প্রশাসন পরিচালিত ওই পার্কের দক্ষিণে কিছু দূর গিয়ে রূপসা ও কাজীবাছা নদীর সংযোগস্থলকে ঘিরেও গড়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্র। এক সময়ের পরিচিত বটিয়াঘাটা ফেরিঘাট শ্মশান পাড় হিসেবে পরিচিত। নদীর ভাঙ্গনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লক  কেন্দ্রিক এ স্পটে  প্রতিদিন বিকেলে সেখানে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন।

বটিয়াঘটা থেকে দাকোপের দিকে যেতে নদীর পাড়েও বিকেলে বিশেষ করে ছুটির দিনে প্রচুর মানুষের ভিড় জমে। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সেখানে ফুডকোর্ট ও চা-কফির স্টল গড়ে উঠেছে।

নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা থেকে পশ্চিমে গিয়ে খালাশী মোড়ের কাছাকাছি গড়ে ওঠা কেডিএ’র ময়ূরী আবাসিক এলাকাটিও এখন এক প্রকার বিনোদন কেন্দ্র  সেখানে প্লট করে রাখা খোলা স্থানগুলোতে মুক্ত বাতাসে ঘুরতে যান দর্শনার্থীরা।

নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক, জাতিসংঘ শিশুপার্ক, সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক, সোনাডাঙ্গা ১ নম্বর আবাসিক এলাকা শিশুপার্ক, নিরালা শিশুপার্ক, ফরেষ্ট ঘাটসহ অনেক জায়গায় মানুষ ছুটির দিনে ঘুরতে যাওয়ায় অনেকটা ঘোষিত/অঘোষিত বিনোদন  কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

ফলে বড় ধরণের ভিড় সামলাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

রূপসা সেতুতে ঘুরতে আসা কলেজ ছাত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, প্রতিবছর ঈদে এখানে ঘুরতে আসি। পরিচিত অনেকের সঙ্গে দেখা হয়। তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি।

দিঘলিয়ার ঈদ মেলায় আসা দর্শনার্থী আ. রহিম  শেখ বলেন,  সারা বছর এই  মেলার জন্য অপেক্ষা করি। আমাদের এলাকা একটু বিচ্ছিন্ন, শহরে যেতে কষ্ট হয়। তাই এই  মেলাই আমাদের ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

অপরদিকে, সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, সুন্দরবনে শীত মৌসুম আর ঈদ মৌসুম বেশি লোক আসে। এবার ঈদের ছুটিতে বিপূল সংখ্যক পর্যটক এসেছে। সব জায়গায় আমাদের বনকর্মী রয়েছে। অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপ সামলাতে সব প্রস্তুতি রয়েছে।