শিরোনাম

কুমিল্লা, ২৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় গেটম্যান হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় এ মামলা করেন। শেফালী আক্তার দুর্ঘটনায় নিহত সোহেল রানার খালা। তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে।
সোমবার দুপুরে দায়ের করা এ মামলার বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন খন্দকার।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা ঈদ করতে দেশে আসেন চুয়াডাঙ্গার বাড়িতে। সেখান থেকে ঈদের দিন কুমিল্লার লাকসামে খালার বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। একই দুর্ঘটনায় আহত সোহেল রানার স্ত্রী ও মেয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শেফালী আক্তার চুয়াডাঙ্গা থেকে মামুন স্পেশাল বাসে করে তাদের নিয়ে কুমিল্লার লাকসামে বাবার বাড়িতে আসছিলেন। পথে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রেনের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ ঘটে।
এ ঘটনায় তিনি নিজেও আহত হন। এছাড়া ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত এবং আরও অনেক যাত্রী আহত হন।
বাদীর অভিযোগ, রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বে অবহেলার কারণে গেটম্যানদের গাফিলতির ফলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ কারণে অভিযুক্ত দুই গেটম্যানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে মামলাটি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল (ঢাকা মেট্রো ব- ১৪-৭৭৮৩) একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।
এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।