বাসস
  ২০ মার্চ ২০২৬, ১৪:২২

পাহাড়ী কন্যা রাঙ্গামাটি প্রস্তুত পর্যটক বরণে

ছবি : বাসস

-মনসুর আহমেদ-

রাঙ্গামাটি, ২০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটক বরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন নগরী খ্যাত রাঙ্গামাটির ব্যবসায়ীরা। নতুন রুপে সেজেছে জেলার পর্যটন মোটেল, পর্যটনের ঝুলন্ত ব্রীজসহ জেলার বিভিন্ন হোটেল-মোটল, রিসোর্টগুলো।

পর্যটনসহ জেলার বিভিন্ন হোটেল মোটেলসহ সকল রিসোর্টই ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ বুকিং শেষ বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। আর পাহাড়ে আগত পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ বিভাগ।

রাঙ্গামাটি পর্যটন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা বাসস’কে জানান, পবিত্র ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটি পর্যটকদের বরণের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি জানান, পর্যটকরা অনলাইন বা অফলাইনে আমাদের হলিডে কমপ্লেক্সে প্রায় ৭০-৮০ শতাংস রুম বুকিং করেছেন। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পর্যটকের ঢল বেশি নামবে বলে আমরা আশা করছি। পর্যটকদের সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য দিতে আমরা অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নত করেছি।

শুক্রবার সকালে রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, সিম্বল আব রাঙ্গামাটি খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে ঘষা-মাজা শেষে রং তুলির আঁচরে রঙিন হয়ে ওঠেছে সেতু ও আশেপাশের এলাকা। অন্যদিকে পর্যটকদের নৌভ্রমণের জন্য সংস্কার শেষে বোটগুলো সারিবদ্ধভাবে বেধে রাখা হয়েছে ঘাটে।

রিসোর্টগুলোকেও সাজিয়ে তোলা হয়েছে নতুন সাজে। এছাড়া পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দ্বীপভিত্তিক রিসোর্টগুলো। এরমধ্যে জেলা পুলিশ পরিচালিত পলওয়েল পার্ক, সেনাবাহিনী পরিচালিত আরণ্যক, মায়াবী দ্বীপ, সুভলং ঝর্ণা এলাকা, কাপ্তাই লেক বেষ্টিত বিভিন্ন পর্যটন স্পট, রাঙাদ্বীপ, লেকভিউ আইল্যান্ডসহ, কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পট। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে পর্যটকদের আগ্রহ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সবুজ-শ্যামল পাহাড়, হ্রদের নীল জলরাশি প্রকৃতির এমন মোহনীয় রূপের টানে প্রতিবছর রাঙ্গামাটিতে ভিড় জমায় ভ্রমন পিপাসু পর্যটকরা। আর টানা ছুটিতে সেই চাপ বেড়ে যায় বহুগুণ। জেলার সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে পর্যটন খ্যাত সাজেকে ভ্যালিতে।

রাঙ্গামাটি বোট মালিক সমিতির নেতা মো. রমজান আলী বাসস’কে জানান, ঈদের লম্বা ছুটিকে সামনে রেখে আশা করছি এবার রাঙ্গামাটিতে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটবে। তাই আমরা বোটগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রঙ করে ঘাটে বেধে রেখেছি। এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

রাঙ্গামাটির মায়ারী দ্বীপ রিসোর্টের পরিচালক রিকো খীসা বাসস’কে জানান, শুধু আমাদের রিসোর্টই নয় জেলার অধিকাংশ রিসোর্ট প্রায় শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। আমরা এখন পর্যটকদের বরণ করে নেয়ার অপেক্ষায় আছি।
বার্গি লেক ভ্যালি রিসোর্টের মালিক সুমেধ চাকমা বাসস’কে জানান, আমাদের সবগুলো রিসোর্ট ২৯ তারিখ পর্যন্ত বুকিং হয়ে গিয়েছে। আশা করছি ঈদে ভালো ব্যবসা হবে। রোজার সময়ে পর্যটক ছিলো না বললেই চলে। এতে অনেকটা আর্থিক ক্ষতির মুখে আমরা। আশা করছি সেটি পুষিয়ে নিতে পারব।

জেলায় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ রকিব উদ্দিন বাসস’কে জানান, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে সাদা পোশাকে নজরদারির পাশাপাশি টহল বাড়ানো হয়েছে। কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে হেল্প ডেস্ক। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে জেলার সকল স্পটে ঘুরে বেড়াতে পারেন তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে। এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা নিরাপদে সকলস্থানে ভ্রমণ করতে পারবেন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ঈদের টানা ছুটিতে পাহাড়ী কন্যা রাঙ্গামাটি পর্যটকদের পদচারণায় আবারো মুখরিত হয়ে উঠবে বলে আশা স্থানীয়দের।