শিরোনাম

ঢাকা, ২২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): মোহাম্মদ সালাহ ও পেপ গার্দিওলা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে আইকনিক দুই ব্যক্তিত্ব। তাদের ছাড়া লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটি কীভাবে নিজেদের সামলায়, সেটিই নির্ধারণ করবে তাদের মৌসুমের গতিপথ।
২০১৬ সালের পর এই প্রথম মিসরীয় ফরোয়ার্ড সালাহকে ছাড়া মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে লিভারপুল। একইভাবে গৌরবময় এক দশকের পর গার্দিওলার ম্যানেজার হিসেবে অনুপ্রেরণা দেওয়ার সুযোগও আর নেই সিটির।
আগস্টের শুরুতে তুরস্কের ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরে যোগ দেন সালাহ। এর মধ্য দিয়ে লিভারপুলের হয়ে অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের দুর্দান্ত অ্যানফিল্ড অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
গত মৌসুম শেষে পদত্যাগ করেন গার্দিওলা। এর মাধ্যমে সিটির ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সময়েরও পর্দা নামে।
এখন তাদের দুজনকে ছাড়াই নতুন যুগ শুরু করছে লিভারপুল ও সিটি, আর একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে নতুন প্রিমিয়ার লিগ মৌসুম।
রোববার ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের মাঠে বোর্নমাউথের বিপক্ষে খেলবে। এটিই হবে গার্দিওলার উত্তরসূরি এনজো মারেস্কার অধীনে লিগে প্রথম ম্যাচ। এর কয়েক ঘণ্টা পর নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার অধীনে সালাহবিহীন লিভারপুল খেলবে নিউক্যাসলের মাঠে।
মে মাসে গার্দিওলা ও সালাহর আবেগঘন বিদায়ের আগে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, সেটিও দুই দলের এবারের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তার অন্যতম কারণ।
২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর গার্দিওলা ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এবং ক্লাবের ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট ২০টি ট্রফি জিতেছেন।
৫৫ বছর বয়সী এই কোচ শেষ মৌসুমে এফএ কাপ ও লিগ কাপ জিতেছিলেন। তবে শেষ দুই মৌসুমে লিগ শিরোপা জিততে ব্যর্থ হওয়ায় ইংল্যান্ডের শীর্ষ শক্তি হিসেবে সিটির আধিপত্যও তার বিদায়ের সাথে শেষ হয়ে যায়।
গত মৌসুমে আর্সেনালের বিরুদ্ধে শিরোপার লড়াইয়ে সিটিকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো প্রয়োজনীয় উদ্যম তৈরি করতে তিনি সমস্যায় পড়েছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন গার্দিওলা। শেষ পর্যন্ত আর্সেনাল সাত পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শিরোপা জয় করে।
২০২৫ সালে তার দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন ফুটবল পরিচালক টিক্সি বেগিরিস্তেইন চলে যাওয়ার পর গার্দিওলা আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “আমার একটা অংশ চলে যাচ্ছে।”
এর পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আনা অভিযোগেরও মুখোমুখি হয় সিটি। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই মামলার এখনো কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। এসব পরিস্থিতিতে গার্দিওলা মনে করেছিলেন, ক্লাবটির প্রতি তার আনুগত্য ধরে রাখা জরুরি।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেভিন ডি ব্রুইনা, এডারসন, কাইল ওয়াকার ও রিয়াদ মাহরেজের মতো একাধিক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় চলে যাওয়ার পর নতুন খেলোয়াড় দিয়ে দল পুনর্গঠনের চাপ তাকে ক্রমেই ক্লান্ত করে তুলেছিল।
ব্যয়বহুল দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ পুরোপুরি সফল হয়নি সিটিজেনদের। ফলে সাবেক চেলসি কোচ মারেস্কার সামনে গার্দিওলার পদাঙ্ক অনুসরণ করার কঠিন চ্যালেঞ্জ। গার্দিওলার সহকারী হিসেবে ২০২২-২৩ মৌসুমে ট্রেবলজয়ী সিটি দলে কাজ করার কারণে মারেস্কা ক্লাবটিকে ভালোভাবেই চেনেন।
তবে ম্যানেজার হিসেবে তার অভিজ্ঞতা সীমিত। চেলসিতে দুই মৌসুমেরও কম সময়, লেস্টারের দ্বিতীয় বিভাগে এক বছর এবং পার্মায় স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব, এটাই তার প্রধান অভিজ্ঞতা।
৪৬ বছর বয়সী মারেস্কার এই সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ার গার্দিওলার বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের ট্রফিতে ভরা সময়ের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন।
লিভারপুলও সালাহ-পরবর্তী যুগের প্রথম মৌসুমে সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে। ২০১৭ সালে ৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে রোমা থেকে সালাহ যখন লিভারপুলে যোগ দিয়েছিলেন, তখন তার পরবর্তী সাফল্য খুব কম লোকই অনুমান করতে পেরেছিল।
চেলসিতে একসময় ব্যর্থ হওয়া সালাহ মার্সিসাইডে পৌঁছেই দুর্দান্ত সাফল্য পান। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লিভারপুলের হয়ে ৪৪২ ম্যাচে ২৫৭ গোল করেছেন। ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি তৃতীয় স্থানে আছেন।
দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ ও লিগ কাপ জয়ের পথে তিনি অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন।
তবে লিভারপুলে সালাহর ক্যারিয়ারের শেষটা ছিল তিক্ত। গত মৌসুমে কোচ আর্নে স্লট তাকে কয়েকবার দল থেকে বাদ দিয়েছিলেন। সালাহ অভিযোগ করেছিলেন, ক্লাব তাকে “বাসের নিচে ছুড়ে দিয়েছে”।
স্লটের সঙ্গে সালাহর দ্বন্দ্ব আর কখনো মেটেনি। শেষ পর্যন্ত লিভারপুলের হয়ে লিগে মাত্র সাতটি গোল করেন তিনি। মৌসুম শেষে দলটি পঞ্চম স্থানে থেকে শেষ করার পর ডাচ কোচ স্লটকেও বরখাস্ত করা হয়।
সালাহর মতো প্রজন্মের এক অসাধারণ প্রতিভার শূন্যস্থান পূরণ করতে একজন খেলোয়াড়ই যথেষ্ট হবে না। ইরাওলার আশা চোটে জর্জরিত অ্যানফিল্ডে প্রথম মৌসুম কাটানো সুইডিশ স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক এবার অনেক ভালো করবেন। নতুন চুক্তিবদ্ধ ভিক্টর মুনোজ এবং কিশোর রিও এনগুমোহাকেও ঘিরে রয়েছে বড় প্রত্যাশা।
তবে তারা যতই চেষ্টা করুক না কেন, এটা নিশ্চিত যে সালাহ ও গার্দিওলার মতো নিজেদের যুগের সংজ্ঞা নির্ধারণকারী দুই আইকনকে ছাড়া লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটি আর কখনোই ঠিক আগের মতো থাকবে না।