বাসস
  ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬:১৯

প্রিমিয়ার লিগের যে পাঁচ তারকার উপর নজর থাকবে

ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০২৬ (বাসস) : শুক্রবার থেকে প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরু হচ্ছে। ২০২৬-২৭ মৌসুমকে ফুটবলের বেশ কিছু তারকার নিজেদের মেলে ধরার মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এবারের প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে যাদের উপর নজর থাকবে : 

মর্গান রজার্স (চেলসি)

অ্যাস্টন ভিলা থেকে ব্রিটিশ রেকর্ড ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে চুক্তিবদ্ধ হওয়া ইংল্যান্ডের এই মিডফিল্ডারের ওপর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে জাবি আলোনসোর নতুন যুগের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা থাকবে।

রজার্স চেলসির এই গ্রীষ্মের সবচেয়ে বড় সাইনিং। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে হতাশাজনক দশম স্থান অর্জনের পর আলোনসো যদি ব্লুজদের ঘুরে দাঁড় করাতে চান, তাহলে তাকে এই বিপুল মূল্যের যথার্থতা প্রমাণ করতে হবে।

২৪ বছর বয়সী রজার্স সদ্য অ্যাস্টন ভিলাকে ৩০ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে ইউরোপা লিগ জিততে সহায়তা করে এসেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির যুব একাডেমিতে একসঙ্গে থাকার সময় থেকেই চেলসির ফরোয়ার্ড কোল পালমারের সঙ্গে রজার্সের বন্ধুত্ব হয়েছে, যা তার নতুন দলে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে। তবে একই ধরনের পজিশনে খেলা এই দুই খেলোয়াড়ের প্রতিভাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই পথ আলোনসোকেই খুঁজে বের করতে হবে।

এলিয়ট অ্যান্ডারসন (ম্যানচেস্টার সিটি)

২৩ বছর বয়সী অ্যান্ডারসন মর্গান রজার্সের চেলসিতে যোগ দেওয়ার আগে মাত্র কয়েক দিনের জন্য সবচেয়ে দামি ব্রিটিশ খেলোয়াড়ের রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন। নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে চুক্তিবদ্ধ অ্যান্ডারসনের সামনে রদ্রি ও বার্নান্ডো সিলভার অসাধারণ পারফরম্যান্সের শূন্যতা পূরণের কঠিন দায়িত্ব। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী রদ্রি বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন, আর সিলভা গেছেন রিয়াল মাদ্রিদে। ফলে সিটির মাঝমাঠে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা পূরণ করতে হবে অ্যান্ডারসনকে। নতুন কোচ এনজো মারেস্কার প্রথম মৌসুম সফল করতে তার ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ইতোমধ্যেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

পজিশন নিয়ন্ত্রণের অসাধারণ দক্ষতা, নিখুঁত পাসিং এবং শান্ত-স্থির মানসিকতার কারণে ইংল্যান্ডের এই আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় বড় অঙ্কের অর্থে দলবদলের সুযোগ পেয়েছেন এবং বিশাল বেতনও পেয়েছেন। এখন সেই বিপুল অর্থ ব্যয়ের যথার্থতা প্রমাণ করতে হবে তাকে। দুই বছর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ছাড়া থাকার পর সিটি এবার চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালকে সিংহাসনচ্যুত করতে চাইবে।

ব্রুনো গিমারায়েস (আর্সেনাল)

মর্গান রজার্সকে দলে ভেড়াতে ব্যর্থ হওয়ার পর আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতার জন্য সান্তনা হিসেবে এসেছেন ব্রাজিলের এই মিডফিল্ডার। চেলসির রেকর্ড প্রস্তাবের সমান অর্থ দিতে রাজি না হয়ে গানার্সরা গিমারায়েসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তার আগমনে চ্যাম্পিয়নদের এমনিতেই শক্তিশালী দল আরও শক্তিশালী হয়েছে।

নিউক্যাসলের অধিনায়ককে দলে নিতে আর্সেনাল খরচ করেছে ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। মাঝমাঠে তিনি ডেক্লান রাইস ও মার্টিন ওডেগার্ডের সঙ্গে খেলবেন। গিমারায়েসের দলে মানিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে আর্সেনাল অধিনায়ক ওডেগার্ড বলেন, “সে আসার প্রথম দিন থেকেই সবকিছু খুব স্বাভাবিক মনে হয়েছে।”

“অতীতে তার সঙ্গে আমাদের কিছু বড় ধরনের লড়াই হলেও, সে দলে এসে এমনভাবে মিশে গেছে যেন সে শুরু থেকেই দলের একজন। সে বল দখলে নিতে পারে, সে একজন লড়াকু খেলোয়াড়।”

সান্দ্রো টোনালি (টটেনহ্যাম)

টটেনহ্যামের রেকর্ড সাইনিং হতে ইতালির এই মিডফিল্ডারের মাত্র ১০ মিনিট সময় লেগেছিল সিদ্ধান্ত নিতে। এখন তাকে প্রমাণ করতে হবে, দ্রুত নেওয়া সেই সিদ্ধান্তটি তার নিজের এবং নতুন ক্লাবের জন্য সঠিক ছিল।

নিরলস পরিশ্রম এবং বল দখলে রাখার দক্ষতার কারণে ২৬ বছর বয়সী টোনালি গত মৌসুমে ছন্দপতনের আগে নিউক্যাসলের পুনর্জাগরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন।

ক্যারিয়ারকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবার লক্ষ্যে টোনালি টটেনহ্যাম কোচ রবার্তো ডি জারবির অধীনে ক্লাবটির পুনর্গঠনে যোগ দিতে রাজি হন। মে মাসে রেলিগেশন এড়ানোর পর এখন ক্লাবটি আরও ওপরে উঠতে চাইছে।তবে নিজের দলবদলের বিশাল অঙ্কের অর্থের কারণে অনেক চাপ রয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।

জেরেমি জ্যাকে (লিভারপুল)

২০২৫ সালে শিরোপাজয়ী লিভারপুলের রক্ষণভাগের মতো দৃঢ়তা গত মৌসুমে দেখা যায়নি। সেই দুর্বলতা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ দূর করতেই জ্যাকেকে দলে নিয়েছে লিভারপুল। ৩৫ বছর বয়সে লিভারপুল অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইককে আর আগের মতো অপ্রতিরোধ্য মনে হচ্ছে না। গত মৌসুমে তার রক্ষণসঙ্গীদের দুর্বলতায় ফন ডাইকের সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ইব্রাহিমা কোনাতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন, আর অ্যান্ড্রু রবার্টসন চলে গেছেন টটেনহ্যামে।

২১ বছর বয়সী জ্যাকেকে এ্যানফিল্ডে আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। শীতকালীন দলবদলের সময় রেনে থেকে ৬ কোটি পাউন্ডে তার দলবদল চূড়ান্ত হয়েছিল।লিভারপুলের রক্ষণভাগের কেন্দ্রে নতুন জুটি হিসেবে তাদের বোঝাপড়া এখনও গড়ে উঠছে বলে স্বীকার করেছেন ফন ডাইক।

তিনি বলেন, “এটা বেশ পরিষ্কার যে, একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি করতে হবে এবং এতে কিছুটা সময় লাগবে। এটা একেবারেই স্বাভাবিক। তবে আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব আমরা সেই বোঝাপড়া তৈরি করতে পারব।”