শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : এক মাস পরই জাপানে শুরু হচ্ছে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। এতে অংশ নিচ্ছেন বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী সব কিশোর-কিশোরী এবং অলিম্পিকের চেয়েও বেশি সংখ্যক ক্রীড়াবিদ। টাইফুন মৌসুমের মধ্যেই প্রতিযোগীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে একটি প্রমোদতরীতে।
১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত নাগোয়া ও আইচি অঞ্চলে অনুষ্ঠেয় এই আসরে প্রায় ১৫ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থাকবেন ফিলিপাইনের টেনিস সেনসেশন আলেকজান্দ্রা ইলা এবং বিশ্বমানের দুই প্রতিভা ১৫ বছর বয়সী ভারতীয় ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী ও ১৩ বছর বয়সী চীনা সাঁতারু ইউ জিদি।
আয়োজকদের আশা, প্রমোদতরী ও কাঠের কনটেইনার থেকে তৈরি থাকার জায়গা থেকে শুরু করে সাধারণ হোটেল কক্ষ- বিভিন্ন ধরনের আবাসনে অবস্থান করে ক্রীড়াবিদরা একটি ‘অনন্য অভিজ্ঞতা’ অর্জন করবেন।
আইচি-নাগোয়া গেমস আয়োজক কমিটির ভাইস-সেক্রেটারি জেনারেল কাজুহিরো ইয়াগি এএফপিকে বলেন, “মনে হচ্ছে গেমস একেবারে দরজায় কড়া নাড়ছে।”
তিনি বলেন, “প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায় এখন আমাদের সামনে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করে যাব এবং আমরা আশা করি শুধু জাপান নয় পুরো এশিয়ার মানুষ এই আয়োজন উপভোগ করবেন।”
খরচ কমাতে আয়োজকেরা অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা বেছে নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে আয়োজনের জন্য ইতালীয় প্রমোদতরী কোস্টা সেরেনা ভাড়া করা হয়েছে।
৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ক্রীড়াবিদ এই জাহাজে থাকবেন। এতে রয়েছে ৫৭১টি কেবিন, সাতটি সুইমিং পুল, আটটি রেস্তোরা এবং নয়টি বার।
জাপানে সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে টাইফুনের মৌসুম পুরোদমে থাকে। তবে কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাসী যে, এতে তাদের পরিকল্পনা ব্যাহত হবে না।
আরও প্রায় ২ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা নাগোয়ার গার্ডেন পিয়ার এলাকায় কাঠের তৈরি শিপিং-কনটেইনারের আদলে নির্মিত কুটিরে থাকবেন। বাকিরা থাকবেন হোটেলে।
এর মধ্যে টোকিওর হোটেলও রয়েছে, যেখানে সাঁতার, ডাইভিং ও অশ্বারোহণের ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
ইয়াগি বলেন, “ক্রীড়াবিদদের জন্য আবাসন হলো বিশ্রাম নেওয়া এবং সহ-প্রতিযোগীদের সঙ্গে সামাজিকভাবে মেলামেশার একটি জায়গা।”
“সব ক্রীড়াবিদ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন এবং নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আবাসনের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।”
নাগোয়ায় অংশ নেওয়া অন্যতম আলোচিত ক্রীড়াবিদ হবেন ইলা। ২১ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় নারী টেনিসে নিজের দ্রুত উত্থান অব্যাহত রাখার লক্ষ্য নিয়ে খেলবেন।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ২০ নম্বরে থাকা ইলা চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন ওপেন জিতে ফিলিপাইনের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ডব্লিউটিএ শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন।
নিজ দেশে তিনি এখন ব্যাপক জনপ্রিয়। তার সাফল্যে টেনিস নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে এবং অনেক তরুণ এই খেলায় আসতে অনুপ্রাণিত হচ্ছে।
বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন বড় প্রতিভা হিসেবে নিজের আগমনী বার্তা দেওয়া সূর্যবংশীকেও ঘিরে থাকবে ব্যাপক আগ্রহ। প্রতিভাবান এই কিশোর গত মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেকে অভিষিক্ত হয়েছেন।
জাপানের নবনির্মিত ক্রিকেট মাঠে সোনা জয়ের লক্ষ্য থাকবে সূর্যবংশীর। সেখানে পুরুষদের ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত ড্র অনুযায়ী তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে পারে।
সাঁতারু ইউ-ও নিজের অসাধারণ উন্নতির কারণে ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছেন। গত বছর তিনি নারীদের ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলিতে নতুন এশিয়ান রেকর্ড গড়েন।
অক্টোবরে ১৪ বছরে পা দিতে যাওয়া ইউ চীনা দলের হয়ে অংশ নেবেন। ২০২৩ সালে হাংঝু এশিয়ান গেমসে ঘরের মাঠে আধিপত্য দেখিয়ে পদক তালিকার শীর্ষে থাকা চীন এবারও সেই সাফল্য ধরে রাখার চেষ্টা করবে।
চীন রেকর্ড ২০১টি সোনা জিতেছিল, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপানের প্রায় চার গুণ।
এশিয়ান গেমসে বরাবরের মতোই অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও ফুটবলের মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর পাশাপাশি কাবাডি, সেপাক তাকরো ও উশুর মতো আঞ্চলিক খেলাও থাকছে।
গেমসের ২০তম আসরে নতুন ইভেন্ট হিসেবে যুক্ত হয়েছে মিক্সড মার্শাল আর্টস, প্যাডেল, টেকবল এবং ভার্চুয়াল তায়কোয়ান্দো।
হাংঝুতে ব্যাপক সাফল্যের সঙ্গে অভিষেকের পর ইস্পোর্টসও ফিরছে। নাগোয়ার আয়োজকেরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক হাতে নিয়ে ইস্পোর্টসে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বয়স্ক মানুষদেরও মানসিকভাবে সক্রিয় থাকতে উৎসাহিত করার আশা করছেন তারা।
১৯৯৪ সালের পর প্রথমবার জাপানে এশিয়ান গেমস ফিরছে। আয়োজক কমিটির ইয়াগি বলেন, আয়োজনকে ঘিরে পরিবেশ ধীরে ধীরে স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, আমরা আপনাদের আবেগাপ্লুত ও উচ্ছ্বসিত করতে পারব এবং খেলাধুলার বিস্ময় তুলে ধরতে পারব।”