শিরোনাম

ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার লজ্জাজনক ৯ উইকেটের পরাজয় দলের পুনর্গঠনের দাবি আরও জোরালো করেছে। ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড এবং ধারাবাহিকতার অভাবে ভোগা মার্নাস লাবুশেন এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ডারউইনের এই ম্যাচটি একতরফা হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল। চোটের কারণে পেস আক্রমণের প্রধান অস্ত্র নাহিদ রানা ছাড়াই প্রথম টেস্টে মাঠে নেমেছিল তারা।
কিন্তু ক্রিকেটে দেখা অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়ে সফরকারীরা রোববার ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয়। এতে শীর্ষ র্যাঙ্কিংয়ের দল অস্ট্রেলিয়া হতভম্ব হয়ে পড়ে এবং শুরু হয় ব্যর্থতার কারণ খোঁজা।
সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের মাটিতে অপ্রত্যাশিত হারের শিকার হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে ২০২৪ সালে গ্যাবায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে আট রানের হারও রয়েছে।
তবে এই পরাজয়ের ধরন ছিল আরও বেশি হতাশাজনক। চার দিনেই বাংলাদেশ আধিপত্য বিস্তার করায় সোমবার অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এটিকে ‘বিপর্যয়’ এবং ‘সবচেয়ে লজ্জাজনক’ পরাজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
১৩ হাজারের বেশি টেস্ট রান করা সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং মনে করেন, কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।
টেস্টের শেষ মুহূর্তে চ্যানেল সেভেনকে তিনি বলেন, “আমি পরিবর্তন আনার পক্ষে সবার শেষে থাকা ব্যক্তি। অধিনায়ক কিংবা খেলোয়াড় হিসেবে আমি সবসময় একটি দলকে একসঙ্গে ধরে রাখতে চেয়েছি। তাই কাউকে বাদ দেওয়ার কথা বলার আগে পরিস্থিতি খুব খারাপ পর্যায়ে পৌঁছাতে হয়।
“কিন্তু ডারউইনে আসার পর যথেষ্ট প্রমাণ পেয়েছি যে, তারা নতুন করে দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করলে খুব বেশি কিছু হারাবে না। আরেকজন ওপেনার, তিন নম্বরে অন্য কাউকে আনা যেতে পারে... আমার মনে হয়, সেটি এখন করতেই হবে।”
স্টিভ স্মিথ (৭১ ও ৪৪) এবং দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করা ক্যামেরন গ্রিন ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। একের পর এক সহজ ভুলে উইকেট হারিয়েছেন ব্যাটাররা।
ওয়েদারাল্ড ও তিন নম্বরে ব্যাট করা লাবুশেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজ শুরুর পর থেকে দুজনেরই ব্যাটিং গড় ২৭-এর নিচে। তাদের দলে জায়গা ধরে রাখার সুযোগও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
সাবেক ওপেনার ম্যাথু হেইডেন একই সম্প্রচারমাধ্যমকে বলেন, ‘রিকি এবং আমি আপনাদের যেমনটা বলবো, ব্যাটিংয়ে কৌশল বা বিন্যাসের ক্ষেত্রে ১-২-৩ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
“তারা যখন নিয়মিতভাবে মিডল অর্ডারকে চাপে ফেলছে, স্টিভ স্মিথকে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক আগেই মাঠে নামতে হচ্ছে, তখন এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু করতেই হবে।”
ডারউইন টেস্টে জশ ইংলিস ছিলেন অতিরিক্ত ব্যাটার। তবে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স জানিয়েছেন, ১৩ সদস্যের স্কোয়াডের বাইরেও নির্বাচকেরা বিকল্প খুঁজতে পারেন। তিনি স্বীকার করেছেন, ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা কিছুটা ধারাবাহিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।
শনিবার ম্যাকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে ওয়েদারাল্ডের জায়গায় পুনরুজ্জীবিত ম্যাট রেনশকে নেওয়াই সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে তরুণ প্রজন্মকেও সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সমর্থন বাড়ছে। জাতীয় দলে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন স্যাম কনস্টাস, ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে, অলি পিক ও কুপার কনোলি।
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি মার্ক ওয়াহ বলেন, “একপর্যায়ে আপনাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।”
সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও বলেন, “আমার মনে হয়, এখন আমাদের কিছু তরুণকে দলে সুযোগ দেওয়া শুরু করতে হবে।”
অক্টোবরে পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কঠিন তিন টেস্টের সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। তাই ম্যাকেতে অন্তত একজন তরুণকে সুযোগ দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের মতে, লাবুশেনের জায়গা নেওয়ার দৌড়ে কার্টিস প্যাটারসন ও নাথান ম্যাকসুইনি এগিয়ে রয়েছেন। যদিও তাদের কেউই সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে নেই।
ডারউইন ছিল আগামী ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ার খেলার সম্ভাব্য ২১টি টেস্টের প্রথমটি। তবে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষিত বোলিং ইউনিট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও নাথান লায়ন এখনও নির্বাচকদের আস্থায় রয়েছে বলে মনে হচ্ছে, যদিও তাদের বয়স বেশ বেড়েছে।
চোট কাটিয়ে ফেরা হ্যাজেলউড বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পছন্দের পেস আক্রমণের বোলার হিসেবে নিজের অবস্থান নিয়ে ওঠা বিতর্কের কার্যত জবাব দিয়েছেন।
চোট থেকে ফিরে আসা অভিজ্ঞ অফস্পিনার লায়নকেই অবশ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে মনে হচ্ছে। ৩৮ বছর বয়সী এই বোলারকে বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের তুলনায় কম কার্যকর দেখা গেছে। তার উত্তরসূরি হিসেবে ২৫ বছর বয়সী টড মারফিকেই তালিকার শীর্ষে মনে করা হচ্ছে।