বাসস
  ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫৯

১৯৭৮ সালের পর নেদারল্যান্ডসের প্রথম বিদেশি কোচ জাভি

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : রোনাল্ড কোম্যানের উত্তরসূরি হিসেবে নেদারল্যান্ডস জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন জাভি হার্নান্দেজ। দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে ৪৮ বছর পর প্রথমবারের মতো নেদারল্যান্ডসের দায়িত্ব পেলেন একজন বিদেশী কোচ।

বার্সেলোনার কিংবদন্তি জাভি ২০১০ সালে খেলোয়াড় হিসেবে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। ২০২৪ সালে ক্যাম্প ন্যু ছাড়ার পর থেকে তিনি কোনো জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন না।

জাভি চার বছরের চুক্তিতে ডাচদেও দায়িত্ব নিয়েছেন। ২০২৮ সালের ইউরো এবং ২০৩০ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
৪৬ বছর বয়সী সাবেক মিডফিল্ডার বলেন, “বার্সেলোনা একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া একজন হিসেবে, যেখানে ইয়োহান ক্রুইফ ও রিনুস মিশেলসসহ আরও অনেকের গভীর প্রভাব ছিল, ডাচ ফুটবলের সঙ্গে আমি বিশেষ এক ধরনের সংযোগ অনুভব করি।”

“এখানে বলা যায়, আমি ডাচ ফুটবলেরই সন্তান।”

“আরও কিছু মহান কোচ, বিশেষ করে লুইস ফন গাল, যার অধীনে বার্সেলোনায় আমার অভিষেক হয়েছিল এবং ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডও খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে আমাকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”

নেদারল্যান্ডসের কোচ হিসেবে কোম্যানের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হয় মরক্কোর কাছে শেষ ৩২-এর ম্যাচে টাইব্রেকারে হারের পর। এরপর তিনি পদত্যাগ করেন।

সাবেক লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট নেদারল্যান্ডস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়। তবে তিনি ক্লাব ফুটবলে থাকাকেই অগ্রাধিকার দেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর জাভির প্রথম ম্যাচ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর এ্যামাস্টারডামের ইয়োহান ক্রুইফ অ্যারেনায় প্রতিদ্বন্দ¦ী জার্মানির বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচ।

১৯৭৮ সালের পর নেদারল্যান্ডসের প্রথম বিদেশি কোচ হলেন জাভি। সর্বশেষ বিদেশি কোচ ছিলেন অস্ট্রিয়ার আর্নস্ট হ্যাপেল। তার অধীনে নেদারল্যান্ডস ১৯৭৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল। ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয় ডাচরা।

জাভি আরও বলেন, “নেদারল্যান্ডসের সমৃদ্ধ ফুটবল সংস্কৃতি এবং একটি সুস্পষ্ট দর্শন রয়েছে, যা আমাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। বল দখলের ওপর ভিত্তি করে আক্রমণাত্মক ফুটবল, যেখানে সৃজনশীলতা, আবেগ ও আত্মবিশ্বাস থাকবে।”

“অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো জয় এবং সবসময়ই তা থাকবে। তবে আমি এমনভাবে জিততে চাই, যা এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রতিফলিত করবে এবং মানুষ উপভোগ করতে পারবে।”

“এর জন্য প্রয়োজনীয় সম্ভাবনা এখানে রয়েছে, পাশাপাশি সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি শক্ত ভিত্তিও রয়েছে।”

জাভির প্রথম কোচিংয়ের দায়িত্ব ছিল কাতারের ক্লাব আল-সাদের। বার্সেলোনাকে ২০২৩ সালে লা লিগা শিরোপা জেতানোর পর পরের মৌসুমের শেষে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হন হান্সি ফ্লিক।

বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ি জীবনে কাতালান ক্লাবটির হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন জাভি। 

বার্সেলোনার হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের তালিকায় তিনি দ্বিতীয়, তার ওপরে আছেন শুধুমাত্র লিওনেল মেসি।

নেদারল্যান্ডসের ফুটবল পরিচালক নাইজেল ডি ইয়ং বলেন, “শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই জাভি সবকিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বিশ্বকাপ, একাধিক জাতীয় শিরোপা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা তার অর্জনের তালিকায় রয়েছে।”

২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালে জাভির তৎকালীন সতীর্থ জাবি আলোনসোর বুকে লাথি মেরে বিখ্যাত হয়ে যাওয়া ডি ইয়ং আরও বলেন, “কোচ হিসেবেও শীর্ষ পর্যায়ের কোচদের সঙ্গে বছরের পর বছর কাজ করে তিনি গড়ে উঠেছেন। তাদের ফুটবল দর্শনের সঙ্গে নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের খেলার ধরনও খুব ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ- উদ্যোগ নেওয়া, আধিপত্য বিস্তারকারী ও আকর্ষণীয় ফুটবল, পাশাপাশি আধুনিক উচ্চপর্যায়ের ফুটবলের প্রয়োজনীয় নমনীয়তা।”

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বারবার শেষ ধাপে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরিচয় থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস।

বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনবার হেরেছে তারা। ট্রফি জিততে না পারা দলগুলোর মধ্যে ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক ফাইনাল হার।

১৯৮৮ সালের ইউরো জয়ই নেদারল্যান্ডসের একমাত্র বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা। এরপর চারটি ইউরোর সেমিফাইনালে হেরেছে তারা, যার সর্বশেষটি দুই বছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

খেলোয়াড় হিসেবে স্পেনকে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা কাটিয়ে একটি দুর্দান্ত দলে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন জাভি। তার সময়েই স্পেন টানা তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতে- ইউরো ২০০৮, বিশ্বকাপ ২০১০ এবং ইউরো ২০১২।

এবার ডাগআউট থেকে একই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ পেলেন তিনি।