বাসস
  ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১৭

দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে পুলিশের অভিযান

ঢাকা, ৬ আগস্ট ২০২৬ (বাসস) : বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলের কোচ নিয়োগের বিষয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কেএফএর কার্যালয়ে তল্লাশির পর বেশ কিছু নথি জব্দ করেছে। সাবেক কোচ হং মিয়ং-বোর নিয়োগ কাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন পুলিশের এক মুখপাত্র।
৫৭ বছর বয়সী হং গত জুনে পদত্যাগ করেন। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ৪৮ দলের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় দক্ষিণ কোরিয়া।

২০২৪ সালে হংকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। তবে দলটি শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর সেই সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

সিউল পুলিশ জানিয়েছে, আর্থিক অপরাধ তদন্তকারীরা হং মিয়ং-বোকে নিয়োগের সময় কাজে বাধা দেওয়ার মতো কোনো অভিযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কেএফএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণ নিয়ম লঙ্ঘন করে হংকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনুচিতভাবে হস্তক্ষেপ করেছিলেন কি না, তা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ২০২৬ বিশ্বকাপের দলটিকে “সোনালি প্রজন্ম” হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। সাবেক টটেনহ্যাম হটস্পার তারকা সন হিউং-মিন, বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্ডার কিম মিন-জে এবং সাবেক প্যারিস সেইন্ট-জার্মেই মিডফিল্ডার লি কাং-ইনকে নিয়ে গড়া দলটির কাছ থেকে ছিল অনেক প্রত্যাশা।

জুলাইয়ের শেষ দিকে আইনপ্রণেতাদের একটি কমিটির সামনে হাজির করা হয় হংকে। সেখানে তিনি দলের বাজে পারফরম্যান্সের পুরো দায় নিজের কাঁধে নেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এক বিবৃতিতে দলের ব্যর্থতার জন্য নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়ী করেন। তার বক্তব্যে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে আনুগত্য ও গোষ্ঠীবাদ প্রভাব ফেলছে বলেও ইঙ্গিত ছিল।

এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কেএফএ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রথমার্ধে সনকে বেঞ্চে রাখার হংয়ের সিদ্ধান্ত অনেক সমর্থককে হতবাক ও ক্ষুব্ধ করেছিল।

জুনে বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে হংকে সমর্থকদের “হং আউট!” স্লোগান ও দুয়োধ্বনি শুনতে হয়। তার পেছনে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসা খেলোয়াড়দের অবশ্য সমর্থকরা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান।

কী ভুল হয়েছিল, তা বুঝতে নিজেরও সমস্যা হচ্ছে বলে স্বীকার করেছিলেন হং।

গত মাসের সংসদীয় শুনানিতে আইনপ্রণেতারা আরও অভিযোগ তোলেন যে হংয়ের বেতন ছিল ৩৮০ কোটি ওন (২৬ লাখ মার্কিন ডলার)। জাতীয় দলের কোচদের ক্ষেত্রে যা তুলনামূলকভাবে উচ্চপর্যায়ের বেতন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তখন হং দাবি করেছিলেন, এই অঙ্কটি সঠিক নয়। তবে প্রকৃত বেতনের পরিমাণ  প্রকাশ করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।