শিরোনাম

ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৬ (বাসস) : ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও আর্সেনালের প্রয়োজন মিডফিল্ডার, লিভারপুলের উচিত একজন উইঙ্গার নেওয়া এবং চেলসির দরকার একজন গোলরক্ষক। আগামী ২২ আগস্ট থেকে প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। তার আগে লিগের ২০ দলের দূর্বলতার জায়গা দেখে নেয়া যাক-
আর্সেনাল: সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার
গত মৌসুমে আর্সেনাল ডেক্লান রাইসকে প্রায় নিংড়ে নিয়েছিল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি খেলেছেন ৪,৪৫৬ মিনিট। বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচে এর প্রভাবও দেখা গেছে, যেখানে মনে হয়েছে এই মিডফিল্ডারের শরীর যেন ভেঙে পড়ার উপক্রম। রাইসকে মাঝে মাঝে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য মাঝমাঠে উচ্চমানের বিকল্প প্রয়োজন আর্সেনালের। ক্রিশ্চিয়ান নরগার্ড গত মৌসুমে নিয়মিত মাঠেই নামতে পারেননি, সাবেক ব্রেন্টফোর্ড অধিনায়কের ওপর মিকেল আর্তেতার আস্থা ছিল না বলেই মনে হয়েছে। আরেকজন মিডফিল্ডার আর্সেনালের শিরোপা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন।
অ্যাস্টন ভিলা: লেফট-ব্যাক
টানা চার বছর শীর্ষ সাতের মধ্যে থেকে শেষ মৌসুমে ইউরোপা লিগও জিতেছে অ্যাস্টন ভিলা। তবে প্রিমিয়ার লিগের অভিজাত দলগুলোর কাতারে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিতে স্কোয়াডে আরও গভীরতা দরকার। একই সঙ্গে লেফট-ব্যাক লুকাস দিনিয়েকে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইয়ের কাছে হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। ইয়ান মাতসেন ভালো খেলোয়াড়, কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের মৌসুমে প্রতি সপ্তাহে তাকে খেলানো সম্ভব নয়। তাই এসি মিলানের পারভিস এস্তুপিনানের প্রতি ভিলার আগ্রহ।
বোর্নমাউথ: রাইট-ব্যাক
অ্যাডাম স্মিথ বোর্নমাউথের কিংবদন্তি খেলোয়াড়। ক্লাবটির হয়ে ৪০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন, কিন্তু তার বয়স এখন ৩৫। তাকে বদলানোর জন্য ম্যাক্স অ্যারনস ও হুলিয়ান আরাউজোকে নেওয়া হলেও নানা কারণে তারা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। আর আলেক্স হিমেনেস ধারে ফিওরেন্তিনায় চলে গেছেন। তাই মার্কো রোজের উচিত রাইট-ব্যাকে বড় কোনো খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া, যাতে শেষ পর্যন্ত স্মিথও বিশ্রামের সুযোগ পান।
ব্রেন্টফোর্ড: লেফট-ব্যাক
ব্রেন্টফোর্ড তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলো ইতোমধ্যেই সামলেছে। তবে লেফট-ব্যাকে আরও ভালো একজন খেলোয়াড় দরকার। তিন বছর আগে ভয়াবহ চোট পাওয়ার পর থেকে রিকো হেনরি ফিটনেস ও ফর্ম নিয়ে লড়াই করছেন। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩০ ম্যাচ খেললেও শটের দিকে নিয়ে যাওয়া ভুল করেছেন চারটি, ব্রেন্টফোর্ডের যেকোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। বাঁ প্রান্ত শক্তিশালী হলে কিথ অ্যান্ড্রুজ চাইলে কিন লুইস-পটারকে আরও সামনে উইংয়ে খেলানোর সুযোগও পাবেন।
ব্রাইটন: সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার
জেমস মিলনারের অবসর এবং পাসকাল গ্রসের বয়স বাড়ার বিষয়টি ব্রাইটন অনেক আগেই মাথায় রেখেছে। গত মৌসুমে ৩৪ বছরের বেশি বয়সী মাত্র ছয়জন মিডফিল্ডার প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন, তাদের দুজনই ব্রাইটনের। মাঝমাঠে তাদের বিকল্প কম, তার ওপর আরও খেলোয়াড় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কার্লোস বালেবাকে নিয়ে নিয়মিতই দলবদলের গুঞ্জন রয়েছে। বিশ্বকাপে ইয়াসিন আয়্যারির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও কারও নজর কাড়তে পারে। টুর্নামেন্টে বক্সের বাইরে থেকে তার চেয়ে বেশি গোল আর কোনো মিডফিল্ডার করেননি। বালেবা ও আয়্যারি থাকলেও ব্রাইটনের মাঝমাঠে আরও একজন দরকার।
চেলসি: গোলরক্ষক
এ গ্রীষ্মে ২০ কোটি পাউন্ডের বেশি খরচ করেছে চেলসি, এর মধ্যে মরগান রজার্সেও জন্যই ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড। তবু বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা রয়েছে। সেন্টার-ব্যাক নেওয়ার আগ্রহ আছে, সেন্ট্রাল মিডফিল্ড ও লেফট উইংয়েও গভীরতা বাড়ানো দরকার। তবে সবচেয়ে জরুরী প্রয়োজন গোলরক্ষক।
রবার্ট সানচেজ কখনোই পুরোপুরি আস্থা অর্জন করতে পারেননি। ২০২৩ সালের আগস্টে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রিমিয়ার লিগে শটের দিকে নিয়ে যাওয়া ভুলের তালিকায় তিনি দ্বিতীয়, ১৭টি। আর গোলের দিকে নিয়ে যাওয়া ভুল করেছেন সাতটি। দুই তালিকার সবচেয়ে খারাপ ১০ জনের মধ্যে সানচেজই সবচেয়ে কম ম্যাচ ও সবচেয়ে কম মিনিট খেলেছেন। স্ট্রাসবুর্গ থেকে মাইক পেন্ডার্স এসেছেন, কিন্তু ২০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ভবিষ্যতের জন্য। জাবি আলোনসো নিশ্চয়ই নিজের মেয়াদ শুরু করতে চাইবেন না প্রথম পছন্দের গোলরক্ষকের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে দুশ্চিন্তা করে।
কভেন্ট্রি: গোলরক্ষক
২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরে কভেন্ট্রির সামনে অনেক অজানা বিষয়। ইংল্যান্ডের সেরা রক্ষণগুলোর বিপক্ষে হাই রাইট ও এলিস সিমস কীভাবে আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন, সেটিও প্রশ্ন। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন গোলরক্ষক নিয়ে, কারণ তাদের কোনো নির্দিষ্ট প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক নেই।
ব্রাইটনের কাছ থেকে কার্ল রাশওয়ার্থকে স্থায়ীভাবে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা, কিন্তু ট্রান্সফার ফি নিয়ে সমঝোতা হয়নি। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপে রাশওয়ার্থের ৮.২ গোল ঠেকানোর হিসাবের চেয়ে বেশি সেভ করে গোল প্রতিরোধ করেছিলেন শুধু ব্রিস্টল সিটির রাদেক ভিতেক। রাশওয়ার্থকে না পেলে কভেন্ট্রির বড় একটি শূন্যতা তৈরি হবে।
ক্রিস্টাল প্যালেস: সেন্টার-ব্যাক
পিয়ের সেজ গত মৌসুমে লেন্সের সব লিগ ম্যাচেই তিন সেন্টার-ব্যাকের রক্ষণ ব্যবহার করেছিলেন। তাই অলিভার গ্লাসনারের অধীনে সফল হওয়া ৩-৪-২-১ ফরমেশনই প্যালেস চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে সেন্টার-ব্যাকে আরও গভীরতা দরকার।
জানুয়ারিতে মার্ক গেহিকে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারানোর পর ইংল্যান্ডের এই ডিফেন্ডার শুরুর একাদশে থাকা ম্যাচে প্যালেসের জয়ের হার ছিল ৩৫ শতাংশ, আর তিনি না থাকলে তা নেমে আসে ২২.২ শতাংশে। জায়ডি কানভট মোটামুটি মানের বিকল্প হলেও রক্ষণে এখনও খেলোয়াড়ের ঘাটতি রয়েছে। ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া যদি চলে যান, তাহলে আরেকজন সেন্টার-ব্যাকের প্রয়োজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
এভারটন: রাইট-ব্যাক
এভারটনে সিমাস কোলম্যানের ১৭ বছরের অধ্যায় শেষ হয়েছে। ন্যাথান প্যাটারসনও চলে যেতে পারেন। ফলে জেক ও’ব্রায়েনই সম্ভবত দলের একমাত্র স্বীকৃত রাইট-ব্যাক হিসেবে থাকবেন। তবে এভারটন সমর্থকদের মত হলো, আয়ারল্যান্ডের এই শক্তসমর্থ খেলোয়াড় একজন ফুল-ব্যাকের জন্য যথেষ্ট গতিশীল বা টেকনিক্যাল নন। জেমস গার্নারও মাঝে মাঝে ওই পজিশনে খেলেছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই এটি এভারটনের সমস্যার জায়গা।
ফুলহ্যাম: সেন্টার-ফরোয়ার্ড
গোল করার মতো আরও খেলোয়াড় দরকার ফুলহ্যামের। গত মৌসুমে রাউল জিনেমেজ (৯) ও হ্যারি উইলসন (১০) মিলে দলটির ৪৩ লিগ গোলের ১৯টি করেছেন (আত্মঘাতী গোল বাদে)। দুজনই এখন ফ্রি ট্রান্সফারে ক্লাব ছেড়েছেন। অন্য কেউ লিগে চারটির বেশি গোল করতে পারেননি। রদ্রিগো মুনিজ (১ গোল), স্যামুয়েল চুকউয়েজে (৩) ও কেভিন (১)-এর কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা থাকবে। তবে আক্রমণে আরও গভীরতা স্পষ্টতই প্রয়োজন। নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়া রিয়াল মাদ্রিদ থেকে গনসালো গার্সিয়াকে নিতে চান। কিন্তু ফুলহ্যামের অন্তত দুজন নতুন খেলোয়াড় দরকার।
হাল: ওয়াইড ফরোয়ার্ড
আক্রমণে কয়েকজন মানসম্পন্ন খেলোয়াড় যোগ করা হালের জন্য অত্যন্ত জরুরী। অলি ম্যাকবার্নি শারীরিকভাবে আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো খেলোয়াড়, কিন্তু কার্যকর হতে তার আশপাশে দৌড়ানোর মতো খেলোয়াড় দরকার। হাল কাইল জোসেফকে মিডলসব্রোর কাছে বিক্রি করেছে এবং ধারে থাকা জো গেলহার্ডটকে স্থায়ীভাবে নেওয়ার চেষ্টাও করেনি।ফলে আক্রমণে তাদের বিকল্প কম।
ইপসউইচ: স্ট্রাইকার
প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত অধিকাংশ দলই দুই বক্সে কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে। ইসা দিওপকে দলে নিয়ে দারা ও’শিয়ার পাশে খেলার মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার পেয়েছে ইপসউইচ। কিন্তু সামনে আরও গোল করার ক্ষমতা প্রয়োজন।
জর্জ হার্স্ট এক মৌসুমে মাত্র দুবার দুই অঙ্কের গোল করেছেন। ২ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডে নেওয়া এমারসনও এক মৌসুমে কখনো ছয়টির বেশি লিগ গোল করতে পারেননি, যদিও তার বয়স মাত্র ২২। সেল্টিক থেকে ডাইজেন মায়েদাকে নেওয়া তাই খুবই প্রয়োজনীয় সংযোজন।
লিডস: গোলরক্ষক
সমস্যার জায়গা সমাধান হবে আশা করে গত গ্রীষ্মে লিঁও থেকে ১ কোটি ৫৬ লাখ পাউন্ডে লুকাস পেরিকে নিয়েছিল লিডস। কিন্তু তিনি তা করতে পারেননি। ২০২৩ সালে ইলান মেসলিয়েরের ব্যাকআপ হিসেবে নেওয়া কার্ল ডারলো গত মৌসুমে লিগে বেশি ম্যাচ খেলেন। এরপর ফ্রি ট্রান্সফারে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে চলে গেছেন। মেসলিয়েরের চুক্তিও নবায়ন করেনি লিডস।
এখন তাদের হাতে রয়েছেন পেরি যিনি প্রথম মৌসুমে হতাশ করেছেন এবং ৩৩ বছর বয়সী অ্যালেক্স কেয়ার্নস। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে কেয়ার্নসের সর্বশেষ উপস্থিতি ২০২৩-২৪ মৌসুমে সালফোর্ডের হয়ে। তাই আরও একজন গোলরক্ষক প্রয়োজন লিডসের।
লিভারপুল: রাইট-উইঙ্গার
লিভারপুলে মোহামেদ সালাহর শেষ মৌসুমটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে হতাশাজনক ছিল, কিন্তু সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২২টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। অ্যানফিল্ডে নয় বছরে সালাহ যা অর্জন করেছেন, তাতে তিনি লিভারপুলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং প্রায় অপরিবর্তনীয়। তবে গত মৌসুমে তার যে গোল-অবদান ছিল, সেটি অপরিবর্তনীয় নয়।
গোল ও সৃজনশীলতা দিতে পারে এমন গতিশীল ওয়াইড অ্যাটাকার, যেমন ব্র্যাডলি বারকোলা লিভারপুলের বিবেচনায় রয়েছে। নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার এমন খেলোয়াড়দের বিকশিত করার ভালো রেকর্ড রয়েছে।
ম্যানচেস্টার সিটি: উইঙ্গার
এনজো মারেস্কা এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির একটি ঘাটতি পূরণ করেছেন। তবে আক্রমণে আরও বৈচিত্র্য আনতে দুই প্রান্তে আরেকজন বিকল্প দরকার। গত মৌসুমের শেষদিকে উইংয়ে পর্যাপ্ত গভীরতা ছিল না সিটির।
আঁতোয়ান সেমেনিও শেষদিকে সমস্যায় পড়েছিলেন এবং বেঞ্চ থেকে তার মানসম্পন্ন বিকল্পও ছিল না। ইংল্যান্ডে দ্বিতীয় মৌসুমে সাভিনিওর পারফরম্যান্সও কমে যায় লিগে মাত্র সাত ম্যাচ শুরু করে একটি গোল করেন। ফিল ফোডেন ও রায়ান শেরকিও মাঝমাঠে বেশি কার্যকর।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড: সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার
আন্দ্রে সান্তোস ও ইউরি তিয়েলেমান্সকে নেওয়ায় মাইকেল ক্যারিকের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডের বিকল্প বেড়েছে। শুরুটা ভালো, কিন্তু আরও খেলোয়াড় প্রয়োজন। ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও মেসন মাউন্টকে যদি ‘নম্বর ১০’ হিসেবে ধরা হয়, তাহলে গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সিনিয়র সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ছিলেন মাত্র তিনজন, কোবি মাইনু, কাসেমিরো ও ম্যানুয়েল উগার্তে। কাসেমিরো ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়েছেন। আর বিশ্বকাপে অ্যান্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্টে চোট না পেলে উগার্তেও সম্ভবত চলে যেতেন।সেই চোটের কারণে মৌসুমের বড় অংশই মাঠের বাইরে থাকবেন তিনি। ইউনাইটেডের এখনও একজন অ্যাথলেটিক, বল কেড়ে নিতে সক্ষম মিডফিল্ডার দরকার।
নিউক্যাসল: ফুল-ব্যাক
নিউক্যাসলের কয়েকটি পজিশনই বেছে নেওয়া যেত। তবে ফুল-ব্যাককে বেছে নেওয়া হয়েছে, কারণ দুই প্রান্তেই একজন করে খেলোয়াড় দরকার। না হলে অন্তত এমন একজন প্রয়োজন, যিনি দুই পাশেই খেলতে পারেন।
টিনো লিভরামেন্তো ও লুইস হল প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা ফুল-ব্যাক। কিন্তু দুজনেরই চোটের সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে কিয়েরান ট্রিপিয়ার, এমিল ক্রাফথ ও ম্যাট টার্গেট চলে যাওয়ায় নিউক্যাসলের বেঞ্চে গভীরতা কমে গেছে। ড্যান বার্ন বাঁয়ে খেলতে পারেন, কিন্তু সেটি আদর্শ নয়। ডানদিকে লিও শাহার আছেন, তবে তিনি এখনও অনভিজ্ঞ কিশোর। অ্যালেক্স মারফিও বাঁয়ে খেলতে পারেন, কিন্তু তিনি মূলত সেন্টার-ব্যাক।
নটিংহ্যাম ফরেস্ট: সেন্টার-ব্যাক
নটিংহ্যাম ফরেস্টের জন্য এলিয়ট অ্যান্ডারসনের বিকল্প খোঁজা জরুরী এটা ধরে নেওয়া যাক। এরপর যে জায়গায় শক্তি বাড়ানো দরকার, সেটি সেন্টার-ব্যাক। নতুন কোচ অলিভার গ্লাসনার তিন সেন্টার-ব্যাকের রক্ষণে দৃঢ় বিশ্বাসী। ক্রিস্টাল প্যালেসে দুই মৌসুমে প্রতিটি ম্যাচেই তিনি তিন বা পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলেছেন। ফরেস্টের হাতে ইতোমধ্যেই নিকোলা মিলেনকোভিচ, মুরিলো, মোরাতো ও জাইর কুনহাসহ কয়েকজন সেন্টার-ব্যাক এবং কয়েকজন তরুণ প্রতিভা রয়েছে। তবু তিন সেন্টার-ব্যাকের রক্ষণে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা অন্তত আরও একজন ডিফেন্ডার নিলে ভালো হবে।
টটেনহ্যাম: উইঙ্গার
মোহাম্মেদ কুদুস ও দেজান কুলুসেভস্কি পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরলে ডান প্রান্তে টটেনহ্যামের ভালো দুটি বিকল্প থাকবে। তবে তারা নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে নেই এবং মৌসুম শুরুর সময়ও পাওয়া নাও যেতে পারে। বাঁ প্রান্তে স্পার্সের হাতে শুধু ম্যাথিস তেল ও উইলসন ওডোবার্ট। নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্সের জন্য তাদের কারও ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করা যায় না। গত মৌসুমে দুজন মিলে ৫৫টি লিগ ম্যাচে মাত্র চার গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করেছেন। গুরুতর হাঁটুর চোট থেকে সেরে ওঠায় ওডোবার্ট মৌসুমের অন্তত প্রথম কয়েক মাস খেলতে পারবেন না। ফলে দুই প্রান্তেই টটেনহ্যামের বিকল্প প্রায় নেই। অন্তত একজন উইঙ্গার দরকার তাদের।
সান্ডারল্যান্ড: সৃজনশীল মিডফিল্ডার
গত গ্রীষ্মে ব্যাপক দলবদল এবং শীর্ষ লিগে ফেরার প্রথম মৌসুমে দারুণ সাফল্যের পর এবার সান্ডারল্যান্ডের দলবদলের কার্যক্রম তুলনামূলক শান্ত। সেটি বোধগম্য। তবে ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবার ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নামতে যাওয়া দলটির আরও গভীরতা প্রয়োজন, যার অর্থ মাঠের বিভিন্ন জায়গায় খেলোয়াড় যোগ করা।
বিশেষ করে আরও একটু সৃজনশীলতা দরকার তাদের। গত মৌসুমে ৩৮ লিগ ম্যাচে ওপেন প্লে থেকে মাত্র ২৩.২ প্রত্যাশিত গোল তৈরি করেছে সান্ডারল্যান্ড। তাদের চেয়ে কম ছিল শুধু অবনমিত বার্নলি ও উলভস।