বাসস
  ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২৩

নিউক্যাসলের কোচের পদ ছাড়লেন এডি হাও

ঢাকা, ১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : সেন্ট জেমস পার্কে পাঁচ বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তির পর বিশ্রাম নিয়ে নতুন উদ্যমে ফেরার জন্য নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এডি হাও।

দীর্ঘদিন ধরে সাফল্যের খোঁজে থাকা ক্লাবটিকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন হাও। ২০২৫ সালে লিগ কাপ জিতে ৫৬ বছরের মধ্যে নিউক্যাসলকে প্রথম বড় শিরোপা উপহার দেন তিনি।

সাবেক বোর্নমাউথ কোচের অধীনে নিউক্যাসল ২০২৩ ও ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করে।

তবে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে নিউক্যাসল ১২তম স্থানে থেকে শেষ করে। গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময়ও তাদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

বুধবার প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচে ব্রিস্টল সিটির কাছে নিউক্যাসলের ৪-১ গোলে হারের সময় ডাগআউটে ছিলেন হাও। কয়েক ঘণ্টা পরই তার ক্লাব ছাড়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।

নিউক্যাসল জানায়, হাওয়ের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিয়েছে এবং ক্লাবের প্রতি তার অসাধারণ অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

ক্লাবের বিবৃতিতে হাও বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে কিছু সময় আত্মবিশ্লেষণের পর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়।”

“প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিরলস শক্তি দিয়ে ক্লাবটির জন্য নিজের জীবন, হৃদয় ও আত্মা উজাড় করে দেওয়ার পর আমার মনে হয়েছে, সরে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নেওয়া এবং নতুন উদ্যমে ফেরাই আমার ও ক্লাব উভয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।”

৪৮ বছর বয়সী হাও বলেন, নিউক্যাসলের কোচ হওয়া ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। এই ক্লাবের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন ছিল।

বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল-আহলির দায়িত্বে থাকা জার্মান কোচ ম্যাথিয়াস ইয়াইসল সেন্ট জেমস পার্কে হাওয়ের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

নিউক্যাসলের অধিনায়ক ব্রুনো গিমারায়েস হাওয়ের প্রশংসা কওে ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন “এই ক্লাবের রাজা!! আমাদের জন্য যা কিছু করেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। একসঙ্গে আমাদের সময়টা উপভোগ করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমাকে আরও ভালো খেলোয়াড় ও মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ধন্যবাদ!”

“আপনার খেলোয়াড় হিসেবে আমি কতটা আনন্দ পেয়েছি, তা কোনো কথাতেই প্রকাশ করতে পারব না। ভবিষ্যতের জন্য আপনাকে অনেক শুভকামনা, কোচ।”

২০২১ সালের নভেম্বরে স্টিভ ব্রুসের স্থলাভিষিক্ত হন হাও। গত বছরের মার্চে ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে লিগ কাপ জয় কওে নিউক্যাসল। ১৯৬৯ সালের পর নিউক্যাসলের এটাই প্রথম বড় ট্রফি।

তবে গত মৌসুমের শুরুতে তারকা স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাকের লিভারপুলে দীর্ঘসূত্রতাপূর্ণ দলবদল দলকে সমস্যায় ফেলেছিল। এরপর চাপের মুখে পড়েন হাও। প্রিমিয়ার লিগের ৩৮ ম্যাচের মধ্যে নিউক্যাসল ১৭টিতে হারে।

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে উঠলেও বার্সেলোনার কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ গোলে বিধ্বস্ত হয় নিউক্যাসল।

এরপর মৌসুম শেষে ইতালির মিডফিল্ডার সান্দ্রো টোনালি টটেনহ্যামে এবং ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডন বার্সেলোনায় চলে যাওয়ায় দল আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম নিউক্যাসল কেনার কয়েক সপ্তাহ পর হাওকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে সাবেক মালিক মাইক অ্যাশলির শাসনের অবসান ঘটে এবং ক্লাবটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্লাবগুলোর কাতারে উঠে আসে।

সৌদি মালিকানা নেওয়ার সময় নিউক্যাসল প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে তলানির দিক থেকে দ্বিতীয় ছিল এবং রেলিগেশন এড়াতে তাদের প্রয়োজন ছিল আরও পাঁচ পয়েন্ট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা মধ্যম সারিতে থেকে মৌসুম শেষ করে।

নতুন মালিকেরা দীর্ঘমেয়াদি উচ্চাকাঙ্খার কথা গোপন করেননি। ১০ বছরের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন তারা।

কোচিং স্টাফদের নিয়ে ক্লাব ছাড়বেন হাও। তিনি সেই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি, তবে নিউক্যাসলকে কয়েক দশকের স্থবিরতা থেকে বের করে আনার জন্য ব্যাপকভাবে  প্রশংসিত হন।

নিউক্যাসলের প্রধান নির্বাহী ডেভিড হপকিনসন বলেন, “এডি ও তার স্টাফরা নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সবার গভীর কৃতজ্ঞতা ও সম্মান নিয়ে ক্লাব ছাড়ছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। এডি চলে যাচ্ছেন বলে আমরা স্বাভাবিকভাবেই হতাশ। তবে ক্লাবের জন্য তিনি যা করেছেন, তার প্রতিটি বিষয়ের জন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”

আগামী ২৩ আগস্ট ঘরের মাঠে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নতুন প্রিমিয়ার লিগ মৌসুম শুরু করবে নিউক্যাসল।