বাসস
  ২৮ জুলাই ২০২৬, ২১:৪৪

সংকটাপন্ন ইতালির কোচ হিসেবে আবারও ফিরলেন মানচিনি

ঢাকা, ২৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : টানা তিনটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠতে ব্যর্থ ইতালি জাতীয় ফুটবল দলকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রবার্তো মানচিনি। মঙ্গলবার ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) সভাপতি জিওভান্নি মালাগো এ ঘোষণা দেন।

এদিকে দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে রবার্তো মালদিনির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ক্লডিও রানেইরি। মানচিনিকে নিয়োগ দেওয়া হলে মালদিনি পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন খবরে প্রকাশিত হয়েছিল।

মালাগো সাংবাদিকদের বলেন, “আজ আমাদের নতুন একজন কোচ এবং নতুন একজন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর রয়েছে।” তিনি জানান, বুধবার মানচিনি ও রানেইরিকে নিয়ে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে আমি মনে করেছি, ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হওয়া উচিত রবার্তো মানচিনির। বরাবরের মতোই এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিচ্ছি।”

মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফের ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হারের পর ইতালির কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন জেন্নারো গাত্তুসো।

৬১ বছর বয়সী মানচিনি এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইতালির কোচ ছিলেন। তার অধীনেই ইতালি ইউরো ২০২০ শিরোপা জিতেছিল।

সাবেক ইতালি কোচ এন্টোনিও কন্টের পরিবর্তে এবারও মানচিনিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।

খবরে বলা হয়, কন্টেকে নিয়োগ দেওয়া হলেও মালদিনি পদত্যাগ করতেন। তিনি চেয়েছিলেন ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া সাবেক ইতালি মিডফিল্ডার থিয়াগো মোত্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হোক।

কোচ হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা আন্দ্রে পিরলো সোমবার ঘোষণা দেন যে, তিনি আর এই পদের দৌড়ে নেই। সাবেক এই মিডফিল্ডার রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিতর্কিত সম্পর্ক এবং সীমিত কোচিং অভিজ্ঞতার কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

ইউরো ২০২০ শিরোপা জয় এবং টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়লেও মানচিনির নিয়োগ এখনও বিতর্কিত।

২০২৩ সালের গ্রীষ্মে সৌদি আরবের জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে ইতালির কোচের পদ থেকে তার আকস্মিক পদত্যাগ এফআইজিসির অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে তার গ্রহণযোগ্যতায় আঘাত হানে। বিশেষ করে তখন ইউরো ২০২৪-এর বাছাইপর্বে ইতালির পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। তবে সৌদি আরবের দায়িত্বও তিনি মাত্র ১৪ মাস পর ছেড়ে দেন।

সবশেষ তিনি কাতারের ক্লাব আল-সাদের কোচ ছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে ক্লাবটির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছিলেন তিনি।

এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ- আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতালিকে আবারও শীর্ষ পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া।

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি ২০১৪ সালের পর আর কোনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারেনি। এমনকি ২০০৬ সালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে তারা বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের একটি ম্যাচও খেলতে পারেনি। এই সময়ে ইতালির একমাত্র বড় সাফল্য ছিল পাঁচ বছর আগে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়।

লুসিয়ানো স্পালেত্তির অধীনে ইউরো শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শেষ হয় ২০২৪ সালে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে।

মানচিনি ক্লাব পর্যায়েও সফল কোচ। ইন্টার মিলানের দায়িত্বে থেকে তিনি ২০০৫ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে টানা তিনটি সিরি আ শিরোপা জিতেছিলেন।

এরপর ২০১১-১২ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিনে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সকে (কিউপিআর) নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ১৯৬৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ম্যানচেস্টার সিটিকে ইংলিশ লিগ শিরোপা উপহার দেন।