শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার হুয়াও পেড্রোর ম্যাচের শেষভাগে মাত্র নয় মিনিটে করা হ্যাটট্রিকের সুবাদে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে চেলসির কোচ হিসেবে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করলেন জাবি আলোনসো।
সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আলোনসো গত ১ জুলাই চেলসির দায়িত্ব নে। প্রাক-মৌসুম সফরে দলের অনেক তারকা খেলোয়াড়কে তিনি এখনও পাননি। এ কারণে স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় তিনি প্রথম ৬০ মিনিট মূলত তরুণ খেলোয়াড়দের দিয়েই খেলিয়েছেন।
পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল নাটকীয়তা। চেলসি তিনবার পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তন করে।
১৭ বছর বয়সী কাজাখ ফরোয়ার্ড দাস্তান সাটপায়েভ অভিষেক ম্যাচেই ষষ্ঠ মিনিটে জোরালো শটে গোল করে চেলসিকে এগিয়ে দেন। তবে এরপর রক্ষণভাগের দুর্বলতায় টানা দুটি গোল হজম করে দলটি। পরে পর্তুগালের যুব দলের খেলোয়াড় দারিও এসুগো গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধে সিডনির দলটি আবারও ৩-২ এবং পরে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু শেষ দিকে পেড্রোর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায়।
এই জয় নি:সন্দেহে আলোনসোর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ১০ম স্থানে শেষ করে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জায়গা না পাওয়া চেলসিকে আবারও বড় শিরোপার লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনার কঠিন চ্যালেঞ্জ তার সামনে।
আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে আগামী শনিবার। একই ভেন্যুতে লন্ডনের প্রতিদ্বন্দ্বী টটেনহ্যাম হটস্পারের মুখোমুখি হবে চেলসি। এরপর দলটি হংকং, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় আরও কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে।
দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ইতোমধ্যে চারজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে দলে নিয়েছে চেলসি। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার মরগান রজার্স, উইঙ্গার জিওভানি কোয়েনদা, ডিফেন্ডার মার্কো পালেস্ত্রা এবং স্ট্রাইকার ইমানুয়েল এমেগা দলে যোগ দিয়েছেন।
তবে এদের মধ্যে শুধু সিরি আ ক্লাব আটালান্টা থেকে আসা ইতালির পালেস্ত্রাই অস্ট্রেলিয়া সফওে আছেন। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়ারা এখনও দলে যোগ দেননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইংল্যান্ডের রেসি জেমস এবং আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেস।
আলোনসো ৪-২-৩-১ ছকে দল সাজান। অভিজ্ঞতার ভার ছিল জশ আচিয়ামপং, লিয়াম ডেলাপ এবং অধিনায়ক হিসেবে শুরু করা তোসিনের ওপর। তাদের সঙ্গে ছিলেন চেলসি একাডেমি থেকে উঠে আসা একঝাঁক তরুণ।
ম্যাচের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনের চমৎকার থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান সাতপায়েভ।
তবে সেই লিড বেশিক্ষণ টেকেনি। আট মিনিট পর কর্নার থেকে অ্যান্থনি পান্তোজোপুলোসের হেডে সমতা ফেরায় ওয়ান্ডারার্স। গোলটি হজমের পেছনে চেলসির দুর্বল রক্ষণভাগই বড় কারণ ছিল।
এরপর স্বাগতিকরা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। আবারও চেলসির রক্ষণ ভেঙে আয়দান হ্যামন্ড ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
বিরতির ঠিক আগে এসুগো দৃষ্টিনন্দন গোলে ২-২’এ সমতায় নিশ্চিত করেন।
বিরতির পরও চেলসির রক্ষণভাগের ঢিলেঢালা পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকে। ৬২তম মিনিটে ডিলান স্কিক্লুনা চমৎকার টার্ন নিয়ে নিখুঁত ফিনিশে ওয়েস্টার্ন সিডনিকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এর পরপরই আলোনসো একসঙ্গে নয়টি পরিবর্তন করেন।
কোল পালমার ও পেড্রো মাঠে নামার পর চেলসির খেলার গতি ও তীব্রতা বেড়ে যায়। এরপর শুরু হয় রোমাঞ্চকর সমাপ্তি, যেখানে ম্যাচের শেষ ভাগে আরও পাঁচটি গোল উপভোগ করেন দর্শকরা।