শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : বাঁ-পাশের সাইড স্ট্রেইন গ্রেড-টু ইনজুরির কারণে ছয় থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানাকে। এজন্য আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে খেলতে পারবেন না তিনি। ইতিমধ্যে রানাকে ছাড়া সিরিজের প্রথম টেস্টের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে রানা ছিটকে যাওয়ায় হতাশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার ইয়ান বিশপ। নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে রানাকে নিয়ে নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশপ।
ঐ পোস্টে বিশপ লিখেন, ‘ক্রিকেট ভক্তদের মত আমিও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নাহিদ রানার বোলিং দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। কিন্তু নাহিদ রানার জন্য খারাপ লাগছে।’
সদ্য শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ইনজুরিতে পড়েন রানা। স্ক্যান রিপোর্টে গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইন ইনজুরি নিশ্চিত হয়েছে।
বিসিবির তথ্য অনুযায়ী, টিস্যু বা পেশির ইনজুরি থেকে সুস্থ হয়ে উঠতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে রানার। এরপর বোলিং বা কাজের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ানোর জন্য আরও দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে চোট পাওয়ার দিন থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রানার অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাবে টাইগাররা। ২০০৩ সালে সর্বশেষ সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ।
২০২৪ সালে টেস্ট ও ওয়ানডে এবং ২০২৫ সালে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় রানার। অভিষেক বছরে ৬ টেস্ট খেলে ২০ উইকেট শিকার করেন তিনি। এরমধ্যে পাকিস্তানের মাটিতে প্রথমবার বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ জয়ে ভূমিকা ছিল রানার। দুই টেস্টে ৬ উইকেট নেন এই পেসার।
এরপর থেকে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা হিসেবে নিজেকে প্রমান করেন রানা। এখন পর্যন্ত ১২ টেস্টে ৩৮, ১৫ ওয়ানডেতে ৩২ এবং ৫ টি-টোয়েন্টিতে ৮ উইকেট শিকার করেছেন রানা।
চলতি বছর ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় শীর্ষে আছেন রানা। ১০ ম্যাচে ৪৩৪ রান দিয়ে ২৭ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এছাড়া ২ টেস্টে ১১ এবং ৪ টি-টোয়েন্টিতে রানার ঝুলিতে আছে ৬ উইকেট।
চলতি বছরের মে মাসে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে আবারও বল হাতে জ্বলে উঠে রানা। দুই ম্যাচে ১১ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ২-০ ব্যবধানে জয়ে অবদান রাখেন তিনি।