শিরোনাম

ঢাকা, ২০ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : গতরাতে পর্দা নামলো ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস। দীর্ঘ ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুললো স্পেন।
এবারই হল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। সর্বোচ্চ ৪৮ দল অংশ নেয়। দলসংখ্যা বাড়ার কারণে ম্যাচের সংখ্যা হয়েছিল ১০৪টি, যা ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এবারের আসরের মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপে ফাইনালসহ ৪৮ ম্যাচে বহু রেকর্ডের জন্ম হয়েছে। সেসব রেকর্ডগুলো জায়গা করে নিয়েছে রেকর্ড বইয়ের পাতায়-পাতায়।
ফুটবল বিশ্বকাপের দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হল স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে প্রথম শিরোপা জিতেছিল তারা। ইতিহাসের সপ্তম দল হিসেবে একাধিক বিশ্বকাপ জয়ের এলিট ক্লাবে নাম লেখাল লা রোজারা।
ইউরো চ্যাম্পিয়ন থাকা অবস্থায় দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। ২০২৪ সালে ইউরো জিতেছিল স্প্যানিশরা। এবার বিশ্বকাপ জিতল লুইস ডি লা ফুয়েন্তের দল।
এর আগে ২০০৮ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হবার পর ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। এই তালিকায় প্রথম নাম তুলে পশ্চিম জার্মানি। ১৯৭২ সালে ইউরোপ সেরা হবার পর ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল পশ্চিম জার্মানি।
বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে তৃতীয় গোল করলেন তোরেস। তবে চলতি টুর্নামেন্টে প্রথম গোল। ২০২২ বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে দুই গোল করেছিলেন তিনি।
ফাইনালে ১০৬ মিনিটে তোরেসের জয়সূচক গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় দীর্ঘতম গোল। জার্মানির মারিও গোটশের পর দ্বিতীয় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করলেন তোরেস।
গোল্ডেন বল জেতা প্রথম স্প্যানিশ ফুটবলার হলেন রদ্রি। বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা প্রথম স্প্যানিশ পাউ কুবার্সি। আর গোল্ডেন গ্লাভস জেতা দ্বিতীয় স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন।
১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের রোমারিও এবং ২০২২ সালে লিওনের মেসির পর বিশ্বকাপজয়ী দলের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি।
বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের দুই আসরে গোল্ডেন বুট জিতলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন গোল হজম করেছে মাত্র একটি। বেলজিয়ামের হয়ে স্পেনের বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করেছিলেন শার্ল ডি কেটেলিয়ার। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলের মধ্যে স্পেনই সবচেয়ে কম গোল হজম করেছে।
সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৮ ম্যাচে (২০২৪-২০২৬) অপরাজিত স্পেন। ২৯ জয়ের সাথে ৯টি ড্র করেছে তারা। ফলে পুরুষ জাতীয় দল হিসেবে ইতালির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙলো স্প্যানিশরা। ২০১৮-২০২১ সাল পর্যন্ত ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল ইতালি।
বড় টুর্নামেন্ট বিবেচনায় ৭ ফাইনালের মধ্যে ৬টিতে জিতেছে স্পেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্পেনের চেয়ে বড় প্রতিযোগিতায় ৭বার ফাইনাল জিতেছে জার্মানি।
ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়লেন স্পেনের লুইস ডি লা ফুয়েন্তে। ৬৫ বছর ২৯ দিন বয়সে তিনি বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে নিলেন।
বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে শেষ ১৫টি ম্যাচের ১৪টিতেই জিতেছে স্পেন। একমাত্র এবারের বিশ্বকাপের নবাগত দল কেপ ভার্দেকে (০-০ ড্র) হারাতে পারেনি তারা।
মাত্র ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসের চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছেন স্পেনের লামিন ইয়ামাল। এই তালিকায় সপ্তম স্থানে নাম তুলেছেন স্পেনের পাউ কুবার্সিও। ১৯ বছর ১৭৮ দিন বয়সে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ নিলেন কুবার্সিও।
এছাড়া ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের হয়ে খেলা পেলে (১৭ বছর ২৪৯ দিন) এবং ১৯৮২ সালে ইতালির হয়ে খেলা জিউসেপ্পে বের্গোমির (১৮ বছর ২০১ দিন) পর ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় ইয়ামাল।
প্রথম কিশোর ফুটবলার হিসেবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের নজির গড়লেন ইয়ামাল।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে মোট ১২১টি নিখুঁত পাস দিয়েছেন কুবার্সি। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপ ফাইনালে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাস দেওয়ার রেকর্ড। ১৯৯৪ সালে ১৩০টি পাস দিয়ে এখনো শীর্ষে ব্রাজিলের দুঙ্গা।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে রানার্স-আপ হওয়া তৃতীয় দল আর্জেন্টিনা। এর আগে ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনা, ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল, ২০২২ সালে ফ্রান্স এবং ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে রানার্স-আপ হয়।
বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর অবশেষে থামল আর্জেন্টিনার জয়যাত্রা। ২০২২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হারের পর প্রথম হার বরণ করল মেসির দল।
একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিন বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচের শুরুর একাদশে ছিলেন লিওনেল মেসি। ব্রাজিলের কাফুর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার নজির গড়লেন মেসি।
তবে ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন মেসি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে একাদশের খেলা সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড প্লেয়ার লিওনেল মেসি (৩৯ বছর ২৫ দিন)।
বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এমন দুইজন ফুটবলার দুই দলের শুরুর একাদশে ছিলেন, যাদের বয়সের ব্যবধান ছিল ২০ বছরের বেশি (২০ বছর ১৯ দিন)। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি (জন্ম : ১৯৮৭ সালের জুন) ও স্পেনের লামিন ইয়ামাল (জন্ম : ২০০৭, জুলাই)।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে মোট ১১টি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়েছেন আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো গোলরক্ষকের এটাই সর্বোচ্চ সেভ।
বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা ষষ্ঠ খেলোয়াড় হলেন এনজো ফার্নান্দেজ। ২০১০ সালে স্পেনের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের জনি হেইটিঙ্গার পর তিনি প্রথম এই কার্ড দেখলেন।