শিরোনাম

ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : নিউক্যাসলের কাছে মঙ্গলবার ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারের পর দায়িত্ব নেওয়ার আট মাসেরও কম সময়ের মধ্যে প্রধান কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্ককে বরখাস্ত করেছে টটেনহ্যাম হটস্পার। এই হারের ফলে প্রিমিয়ার লিগে রেলিগেশন জোন থেকে মাত্র পাঁচ পয়েন্ট ওপরে রয়েছে স্পার্সরা।
উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের ১৬তম স্থানে রয়েছে। শেষ আটটি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি। ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর এটিই তাদের সবচেয়ে বাজে পারফরমেন্স।
শেষ ১৭টি লিগ ম্যাচে স্পার্স জিতেছে মাত্র দুটি এবং এই সময়ে সংগ্রহ করেছে মাত্র ১২ পয়েন্ট।
৫২ বছর বয়সী ফ্র্যাঙ্ক গত জুনে দায়িত্ব নেন। ইউরোপা লিগ ফাইনালে শিরোপা জয়ের দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পরই আনগে পোস্টেকোগ্লকে বরখাস্ত করার পর তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তিন বছরের চুক্তিতে ড্যানিশ এই কোচকে নিয়োগের সময় ক্লাব তাকে ‘‘অন্যতম প্রগতিশীল ও উদ্ভাবনী প্রধান কোচদের একজন” বলে প্রশংসা করেছিল।
বুধবার টটেনহ্যামের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “পুরুষ দলের প্রধান কোচের পদে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাব এবং থমাস ফ্র্যাঙ্ক আজই দায়িত্ব ছাড়ছেন। থমাসকে ২০২৫ সালের জুনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য তাকে সময় ও সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। কিন্তু ফলাফল ও পারফরম্যান্সের কারণে বোর্ড মনে করছে মৌসুমের এই পর্যায়ে পরিবর্তন প্রয়োজন।”
বিবৃতিতে তার প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনাও জানানো হয়।
গ্রুপ পর্বে চতুর্থ হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬-তে সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে টটেনহ্যাম। কিন্তু লিগে সাত জয়, আট ড্র ও ১১ হার, এই মৌসুমে এমন হতাশাজনক রেকর্ডের পাশাপাশি দুটি ঘরোয়া কাপ প্রতিযোগিতা থেকেও ছিটকে পড়েছে স্পার্সরা।
গত মাসে লন্ডনের প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস্ট হ্যামের কাছে ২-১ গোলে হারের পর অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান রোমেরো পরিস্থিতিকে “দুর্যোগ” বলে বর্ণনা করেছিলেন। তবে ফ্র্যাঙ্ক তখন দাবি করেছিলেন, তার ওপর সবার আস্থা রয়েছে।
ব্রেন্টফোর্ডে সাত বছর দায়িত্ব পালন করেছেন ফ্র্যাঙ্ক। ২০২১ সালে দলটিকে চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রিমিয়ার লিগে তুলেছিলেন এবং সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও পশ্চিম লন্ডনের ক্লাবটিকে শীর্ষ বিভাগে টিকিয়ে রাখেন।
গত মৌসুমে স্পার্স ১৭তম স্থানে শেষ করলেও বিলবাওয়ে ইউরোপা লিগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করে নেয়। ১৭ বছর পর এটি তাদের প্রথম বড় শিরোপা ছিল।
পোস্টেকোগ্লুর অধীনে লিগে ভুগলেও তার আক্রমণাত্মক ফুটবল দীর্ঘদিনের হতাশ সমর্থকদের অন্তত বিনোদন দিয়েছিল। এর বিপরীতে ফ্র্যাঙ্কের রক্ষণাত্মক ও সতর্ক কৌশল সমালোচনার মুখে পড়ে।