বাসস
  ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০৪
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৮

নতুন ইউরোপভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগে খেলবেন স্মিথ, মার্শ ; মালিকানায় ওয়াহ, ম্যাক্সওয়েল

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি২০ লিগের জনপ্রিয়তা ক্রমশই বাড়ছে। খেলোয়াড়রাও কার্যত এতে উপকৃত হচ্ছে। নিজেদের ঘরোয়া আসর ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বের বাইরে বিভিন্ন দেশে আয়োজিত এই ধরনের টি-২০ লিগে খেলা বেশ উপভোগও করে থাকেন তারকা খেলোয়াড়রা। তারই ধারাবাহিকতায় আরো একটি টি-২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ শুরু হতে যাচ্ছে। আর সেই নতুন ইউরোপভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগে (ইটিপিএল) খেলতে যাচ্ছেন স্টিভেন স্মিথ ও মিচেল মার্শের মত তারকারা।

এই লিগটির সহ-মালিক বলিউড তারকা অভিষেক বচ্চন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিও থাকছে। বুধবার এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। লিগটি আয়োজন করা হবে আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে কেন্দ্র করে।

সাবেক নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটার কাইল মিলস ও ন্যাথান ম্যাককালাম আরেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক। লিগে এখনও তিনটি দল বিক্রি বাকি রয়েছে। মূলত গত গ্রীষ্মে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লিগটি তখন যাত্রা শুরু করতে পারেনি। ইতোমধ্যে বিক্রি হওয়া তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এ্যামাস্টারডাম, বেলফাস্ট ও এডিনবরা ভিত্তিক। বাকি তিনটি দল বিক্রি হলে সেগুলোর ঘাঁটি হবে ডাবলিন, রটারডাম ও গ্ল্যাসগোতে।

অবসরের ২০ বছরেরও বেশি সময় পর ক্রিকেটে প্রথম বড় ধরনের সম্পৃক্ততা হিসেবে ওয়াহ একটি বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের অংশ হয়ে এ্যামাস্টারডাম ফ্লেমসের মালিক হচ্ছেন। এই গ্রুপে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ড হকি কিংবদন্তি জেমি ডোয়্যারও রয়েছেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল সহ-মালিক হবেন আইরিশ উলভসের, যেখানে তাঁর সঙ্গী অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক বীমা প্রতিষ্ঠান এনআরএমএ’র সাবেক গ্রুপ সিইও রোহান লুন্ড। ম্যাককালাম ও মিলস কিনেছেন এডিনবরার ফ্র্যাঞ্চাইজি।

এই লিগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। এই তিন বোর্ডকে নিয়ে ইউরো স্ল্যাম টি-টোয়েন্টি ২০১৯ সালে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। ইটিপিএল হচ্ছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড ও ভারতভিত্তিক রুলস গ্লোবাল (রুলস এক্স)-এর যৌথ উদ্যোগ, যেখানে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়েছে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট বোর্ড (কেএনসিবি)। অভিষেক বচ্চন এই লিগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা; তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন ভারতীয় বিনিয়োগকারী রয়েছেন, যাদের মধ্যে আইপিএলের দিল্লি ক্যাপিটালসের সাবেক সিইও ধীরজ মালহোত্রাও আছেন।

একাধিক দেশে আয়োজিত প্রথম লিগ হিসেবে ইটিপিএল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অনুমোদন পেয়েছে।  প্রথম মৌসুম নির্ধারিত হয়েছে ২৬ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, এটি দ্য হান্ড্রেডের ফাইনালের ১০ দিন পর শুরু হবে। তবে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল)-এর সঙ্গে সময়সূচির সংঘাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ সিপিএলের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সেটিও আগস্ট-সেপ্টেম্বরেই হওয়ার কথা।

ওয়াহর মতে, স্মিথ ও মার্শ এবং নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ইতোমধ্যে এ্যামাস্টারডাম ফ্লেমসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ওয়াহ আরও নিশ্চিত করেছেন, টিম ডেভিডের সঙ্গেও ইতিবাচক আলোচনা চলছে।

ওয়াহ বলেন, “প্রায় নতুন একটি বাজারে ক্রিকেট বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে এবং ইউরোপ ও মহাদেশীয় খেলোয়াড়দের ওপর এর প্রভাব পড়বে, তারা আরও ভালো হবে। খেলোয়াড় হিসেবে আশপাশের খেলোয়াড়দের উন্নত করার প্রয়াস থাকতে হবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায়, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিজের সাফল্যের চেয়ে অন্যদের ওপর নিজের প্রভাবের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। স্টিভ স্মিথ ও মিচ মার্শ, তারা ক্যারিয়ারের এমন পর্যায়ে আছেন, যেখানে তারা অন্য খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সাহায্য করতে চান।”

দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী ওয়াহ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের শুরুতে অবসর নেন এবং এই ফরম্যাটে কখনও খেলেননি বা কোচিং করাননি। তাহলে কেন ইটিপিএলে বিনিয়োগ? এম প্রশ্নের উত্তওে ওয়াহ বলেন, “এই সুযোগটা তিন-চার মাস আগে এসেছে। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মানসিকতাটা আমার ভালো লেগেছে। যা মানুষ অসম্ভব মনে করে, সেটাই করে দেখানো। ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত হব, এটা কখনও ভাবিনি।”

“চার-পাঁচ সপ্তাহ ধরে বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলার সুযোগ ইউরোপের খেলোয়াড়দের উন্নতিকে দ্রুত এগিয়ে নেবে। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইউরোপের তিনটি দল আছে। সামনে অলিম্পিকেও সুযোগ আসতে পারে। ইউরোপীয় ক্রিকেটের জন্য এটি বিশাল একটি সুযোগ।”

“আমরা এটিকে অর্থবহ একটি প্রতিযোগিতা বানাতে চাই। শুধু ইউরোপীয় ক্রিকেটকে সমর্থনের জন্য প্রতীকী কিছু নয়। লক্ষ্য বিশ্বের সেরা লিগগুলোর একটি হওয়া। হয়তো এখনই সেরা টি-টোয়েন্টি লিগ নয়, এটা বড় লক্ষ্য।”