বাসস
  ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৩

প্রিমিয়ার লিগের ট্রান্সফার উইন্ডোর গুরুত্বপূর্ণ দিক

ঢাকা, ২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলোর জন্য শীতকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো খুলে গেছে। শিরোপা জেতা, আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা নিশ্চিত করা কিংবা লাভজনক ইংলিশ শীর্ষ লিগে টিকে থাকার লক্ষ্যে দলগুলো বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত রয়েছে।

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি এই উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে যেসব ক্লাব সবচেয়ে ব্যস্ত থাকতে পারে, তাদের পাঁচটির দিকে

নজর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি :

লিভারপুল আবারও বড় খরচে নামতে পারে :

মাত্র কয়েক মাস আগে গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি খরচ করে লিভারপুল। ছয়জন নতুন খেলোয়াড় দলে টানতে তারা প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছিল।

তবে সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফল এখনো মেলেনি এবং চোট-আঘাতের কারণে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের আবারও বাজারে নামতে হতে পারে।

নিউক্যাসল থেকে ব্রিটিশ রেকর্ড ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে আলেক্সান্দার ইসাককে দলে ভেড়ানো ছিল লিভারপুলের গ্রীষ্মকালীন কেনাকাটার মূল আকর্ষণ। কিন্তু পা ভাঙার কারণে সুইডিশ ফরোয়ার্ড অন্তত দুই মাস মাঠের বাইরে চলে গেছেন।

গ্রীষ্মকালীন উইন্ডোতে ফরোয়ার্ডদের পেছনে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করলেও বর্তমানে আর্নে স্লটের আক্রমণভাগ বেশ দুর্বল। আফ্রিকান নেশন্স কাপে ব্যস্ত থাকায়  মিশরীয় তারকা মোহাম্মদ সালাহও নেই।

বেঞ্চে বসানো নিয়ে প্রকাশ্যে স্লটের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়ার পর সালাহর ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। মিশরীয় তারকা যদি দল ছাড়েন, তবে বিকল্প খোঁজায় নামতে হবে লিভারপুলকে।

শিরোপা লড়াই জোরদার করার লক্ষ্যে ভিলা :

শিরোপা দৌড়ে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন নির্ভর করবে আগামী এক মাসে উনাই এমেরির স্কোয়াড কতটা শক্তিশালী করা যায়, তার ওপর।

আর্থিক স্থায়িত্ব নীতিমালার কারণে গ্রীষ্মে অবাধে খরচ করতে পারেনি অ্যাস্টন ভিলা।

তবু এমেরি রীতিমতো বিস্ময় সৃষ্টি করে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয় উপহার দেন। যদিও মঙ্গলবার আর্সেনালের কাছে ৪-১ গোলে হারতে হয়।

খরচের সুযোগ সীমিত থাকা সত্ত্বেও, এক বছর আগে জানুয়ারির উইন্ডোতে মার্কাস রাশফোর্ড ও মার্কো আসেনসিওকে ধারে এনে দলকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছিল ভিলা, যা তাদের প্রায় চ্যাম্পিয়নস লিগে তুলে দিচ্ছিল।

সেমেনিওর গন্তব্য সিটি :

মাসের প্রথম বড় ট্রান্সফার লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটি এগিয়ে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বোর্নমাউথ থেকে এন্টোনিও সেমেনিওকে দলে টানার পথে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে সিটিজেনরা।

এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে নয়টি গোল করা ঘানার এই ফরোয়ার্ডকে লিভারপুল, চেলসি ও টটেনহ্যামও চাইছিল।
তার চুক্তিতে ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বাইআউট ক্লজ রয়েছে, যা ১০ জানুয়ারির আগেই সক্রিয় করতে হবে।

ইতোমধ্যে লিগের সর্বোচ্চ গোল দেয়া দল সিটির আক্রমণভাগে আরও শক্তি যোগ করতে দেরি করতে চান না পেপ গার্দিওলা। তবে উইং থেকে গোল পাওয়াটা গার্দিওলার জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেরেমি ডোকু, সাভিনিও, অস্কার বব ও ওমর মারমুশ এই চারজন মিলেও এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে মাত্র একটি গোল করেছেন।

মাইনু দল ছাড়ছেন :

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জানুয়ারির ট্রান্সফার কার্যক্রম অনেকটাই নির্ভর করবে কোবি মাইনুর ভবিষ্যতের ওপর।
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডার ইউরো ২০২৪ ফাইনাল পর্যন্ত থ্রি লায়ন্সদের অভিযানে উজ্জ্বল ছিলেন। তবে এই মৌসুমে তিনি এখনো প্রিমিয়ার লিগে শুরুর একাদশে নামেননি।

রুবেন আমোরিমের চোখে মাইনু অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজের সঙ্গে মানানসই নন বলেই মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুজনই চোটে পড়ায় ইউনাইটেডের মিডফিল্ড বিকল্প আরও সীমিত হয়েছে।

ব্রায়ান এমবেউমো ও আমাদ দিয়ালোও আফ্রিকান নেশন্স কাপে ব্যস্ত। তবে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের জন্য খেলোয়াড় আনতে সতর্ক আমোরিম।

পর্তুগিজ এই কোচ বলেন, “আমরা যদি নিশ্চিত না হই, সবাই যদি একমত না হয়, তাহলে কাউকে না আনাই ভালো। এই মুহূর্তে যারা আছে, তাদের নিয়েই কাজ করা উচিত। অতীতে যে ভুলগুলো করেছি, সেগুলো আবার করা যাবে না।”

ইউনাইটেড একাডেমি থেকে উঠে আসা মাইনুকে বিক্রি করলে আর্থিক স্থায়িত্ব নীতিমালার মধ্যে থেকে আরেকজন মিডফিল্ডার আনার সুযোগ বাড়বে।

ওয়েস্ট হ্যামের টিকে থাকার লড়াই :

ওয়েস্ট হ্যাম ১৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগ থেকে নেমে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে।

সেফটি জোন থেকে তারা চার পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে, আর নটিংহ্যাম ফরেস্ট ও লিডসের মতো উর্ধ্বমুখী দলগুলোকেও টপকাতে হচ্ছে।

নুনো এসপিরিতো সান্তোর কাছে সবচেয়ে জরুরী কাজ হলো একজন স্ট্রাইকার আনা। কারণ নিকলাস ফুলক্রুগ ইতোমধ্যে ধারে এসি মিলানে যোগ দেওয়ায় দল ছেড়েছেন।