শিরোনাম

সুলতান মাহমুদ
নড়াইল, ১২ মে ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সারাদেশে চলছে গবাদিপশু বেচাকেনার প্রস্তুতি। এই ঈদে নড়াইল জেলায় কোরবানির জন্য ৪৫ হাজার ৪৯৭টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে এলাকাবাসীর নজর কেড়েছে নড়াইল সদর উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের রিপন মিনার খামারের ২৫ মণ ওজনের গরু ‘বাহুবলি’। এই গরুর দাম ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি নড়াইলের অন্যতম বড় গরু। গরুটিকে লালন-পালন করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে খামার মালিকের। বাহুবলিকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। এতে এলাকায় এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
খামার মালিক রিপন হোসেন মিনা জানান, ২০১৮ সালে ৮টি গরু নিয়ে গরুর খামার শুরু করেন। এবছর কোরবানির জন্য তিনি মোট ২২টি গরু প্রস্তুত করেছেন। তার খামারের গরুগুলো সুঠাম দেহের ও শক্তিশালী। প্রত্যেকটি গরুর সর্বনিম্ন দাম ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। বিশাল আকারের বাহুবলিসহ খামারের প্রতিটি গরুকে পরিবারের সদস্যের মতোই পরম যত্নে লালন পালন করেছেন। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খড়, খৈল, ভুসি ও ঘাস খাইয়ে এই খামারের গরুগুলোকে বড় করা হয়েছে। এর পেছনে মালিকের পাশাপাশি তার স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও শ্রম ও সময় দিয়েছেন।
রিপন মিনার স্ত্রী রোজিনা বলেন, গরুগুলোকে পরম যত্নে বড় করেছি। তাই তাদের কাছে গেলে সব শান্ত হয়ে যায়। ঈদের বাজারে যদি ভালো দাম পাওয়া যায় তাহলেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।
খড়রিয়া গ্রামের গিয়াস মিনা বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাহুবলি নামের বিশাল আকৃতির গরু দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন উৎসুক জনতা ভিড় করছেন। কেউ কেউ এর বিশাল আকৃতি দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। কেউ আবার এর স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির জন্য জেলার ৩ উপজেলায় মোট ৪৫ হাজার ৪৯৭টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ১৪হাজার ৮৭৪টি, বলদ ৬৩৯টি, গাভী ৫হাজার ১৪১টি, ছাগল ২৪ হাজার ৭৮৮টি এবং ভেড়া ৫৫টি। জেলায় কোরবানির জন্য মোট ৩৯ হাজার ৭৩৩টি গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ৫ হাজার ৭শত ৬৪টি উদ্বৃত্ত পশু অন্য জেলায় পাঠানো যাবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক জানান, নিরাপদ গবাদিপশুর মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যে নড়াইলে খামারসহ গৃহস্থালি বাড়িতে যেসব গরু-ছাগল লালন-পালন করা হচ্ছে, প্রাণিসম্পদ বিভাগ তা নিয়মিত মনিটরিং করছে। স্বাভাবিক খাবারের মাধ্যমে সুস্থ সবল গরু পালনে খামারিদের প্রাণিসম্পদের ডাক্তাররা নিয়মিত পরামর্শ দেন। গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যরা কাজ করেন। সামনে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা কম-বেশি লাভবান হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।