শিরোনাম

নীলফামারী, ১২ জুন, ২০২৬ (বাসস): জেলার দুই উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির প্রভাবে শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে।
বিদ্যালয়ে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য, লেখাপড়ায় আগের চেয়ে মনোযোগী হয়েছে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শিশুদের পুষ্টিহীনতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এ কর্মসূচি।
নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরের দিকে জেলার কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলার ৪২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি চালু হয়।
বর্তমানে এসব বিদ্যালয়ের ৫৪ হাজার ৯১৫ জন শিক্ষার্থীকে সপ্তারের পাঁচ দিন রুটিন মাফিক সেদ্ধ ডিম, পাউরুটি, দুধ, কলা ও বিস্কুট সরবরাহ করা হচ্ছে।
ওই দুই উপজেলার মধ্যে জলঢাকায় ২৪৮টি বিদ্যালয়ের ৩৫ হাজার ৮০১ জন এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার ১৭৫টি বিদ্যালয়ের ১৯ হাজার ১১৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে জেলার জলঢাকা উপজেলা শহরের বগুলাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি।
এসময় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহা আক্তারের মুখে শোনা যায় বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতির কথা।
ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার জানায়, আগে স্কুলে আসতে অনীহা ছিল অনেকের। খাবার সরবরাহের পর থেকে বেড়েছে উপস্থিতি।
ওই শিক্ষার্থী বলেছে,আগে সব ক্লাস শেষ করতে শরীরে ক্লান্তি আসতো। এখন দুপুরে খাবার পেয়ে ক্লান্তি আর নেই। আমরা সকলেই এখন নিয়মিত বিদ্যালয়ে এসে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করি।
অভিভাবক শিল্পী আক্তার বলেন, ঝড় বৃষ্টি হলেও বাড়িতে থাকতে চায় না শিশুরা। সময় হলেই স্কুলে পৌঁছে দিতে হয়।
‘স্কুল ফিডিং’ শুরু হওয়ার পর থেকে লেখাপড়ায় আগ্রহ যেমন বেড়েছে, তেমনি শিশুদের নানা শারীরিক সমস্যা দূর হয়েছে।
বগুলাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেরা পারভীন বলেন, ‘স্কুল ফিডিং’ শুরুর ফলে আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। এখন প্রতিদিন গড় উপস্থিতি ৯০ ভাগেরও বেশি।
বিদ্যালয়ে যেমন ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য, তেমনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বেড়েছে মনোযোগ। শিশুদের পুষ্টিহীনতা রোধে কাজ করছে সরকারের এই কর্মসূচি।
সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) নামে বেসরকারি একটি উন্নয়ন সংস্থা।
ইএসডিও’র প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. শামসুল আলম বাবু বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বিদ্যালয়ে খাবার পৌঁছে দেই।
খাবারের গুণগত মান টেকনিক্যাল কর্মকর্তা যাচাই করেন। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করি।
জলঢাকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সামাদ বাসসকে বলেন, এখন একটা পরিবেশ এসেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে।
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বিদ্যালয়ের পরিবেশ বদলে দিয়েছে। কমেছে শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া, ফিরেছে লেখাপড়ায় মনোযোগ। পুষ্টিহীনতা কমেছে শিশুদের।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বাসসকে বলেন, জেলার জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং লেখাপড়ায় আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে শুধু ওই দুই উপজেলায় নয়, গোটা জেলায় এই কর্মসূচি চালু হলে জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়বে।