শিরোনাম

॥ আবদুস সালাম আজাদ জুয়েল ॥
চাঁদপুর, ১০ মে, ২০২৬ (বাসস) : জেলার দুটি সেচ প্রকল্প মেঘনা ধনাগোদা ও চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের সুবাদে বোরো ধানের ব্যাপক ফলন হয়েছে। এ বছর দুটি প্রকল্পে ১৬ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে ২২ থেকে ৫৫ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দুটি সেচ প্রকল্পের আওতাধীন এলাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানালেন কৃষকেরা। এবারের ফলনে খুশি তারা। পরিশ্রম সফল হয়েছে।
‘চাঁদপুর সেচ প্রকল্প’ ও ‘মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প’ চাঁদপুর জেলার ধান ও রবিশস্য উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বোরো ধানের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কৃষকেরা ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের আওতাধীন সদর, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলায় বোরোর আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে এসব জমির অর্ধেকের বেশি ধান কাটা হয়েছে। আজ ১০ মে পর্যন্ত প্রায় ৫৫ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে।
অন্যদিকে মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। আজ পর্যন্ত এই প্রকল্পের প্রায় ২৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ দেইচর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম (৫৫) বলেন, তিনি এ বছর ১ একর ২০ শতাংশের দুটি জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। তার ধান কাটা প্রায় শেষের দিকে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। একই গ্রামের কৃষক তাহের সর্দার (৪৮) বলেন, তিনি ৪০ শতাংশ জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। ১০ শতাংশ জমিতে পেয়েছেন ৮ মণ ধান। এই ফলন পেয়ে তিনি খুশি।
তিনি বলেন, নিয়মিত পানি, সার এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকায় এবছর বোরোর ফলন ভালো হয়েছে।
বালিথুবা গ্রামের কৃষক মাসুদ আহমেদ (৪৫) বলেন, এই বছর সঠিক সময়ে পানি পাওয়ায় সময়মতো ধান রোপণ করতে পেরেছি। ৫০ শতক জমিতে ধান রোপণ করে ইতোমধ্যে ৩০ শতক জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। ভালো ফলন হওয়ায় খরচ বাদে কিছু লাভ থাকবে।
মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর এলাকার কৃষক আবেদ হোসেন (৬০) বলেন, তিনি দুই কানিতে বোরো আবাদ করেছেন। অর্ধেক জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা হওয়ায় অনেকেরই ধান কাটতে অতিরিক্ত শ্রমিক ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। কিন্তু এবছর পানির সমস্যা তেমন হয়নি। তাই ফলন ভালো হয়েছে।
একই উপজেলার ষাটনলের কৃষক জয়নাল মিয়া (৬২) বলেন, আমার ৩ কানি এবং আমার ভাই ২ কানি জমিতে ধান রোপণ করেছি। এ বছর পানির সংকট না থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। আমাদের অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে। বাকিগুলোও কাটা চলছে। মৌসুমের শেষদিকে শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার ফরাজিকান্দি এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) বলেন, ৪ কানি জমিতে ধান বুনেছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। আনুমানিক ৩০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। কয়েকদিন আগে হঠাৎ কালবৈশাখির কারণে শিলাবৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার বাসসকে বলেন, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পে ধানের ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। শুরুতে সেচ সংকট থাকলেও পরবর্তীতে সব কৃষক পানি পেয়েছে। ইতোমধ্যে আজ রবিবার পর্যন্ত ৫৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে যথাসময়ে কৃষকরা ধান কাটতে পারবে। এ বছর এই সেচ প্রকল্পে ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ৪৪ হাজার ১৫৮.২০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, তুলনামূলকভাবে এ বছর কৃষকরা আগে পানি পেয়েছে। যার ফলে বোরোর আবাদ ভালো হয়েছে। এই মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বোরো আবাদের অর্জন বেশি।
কৃষকেরা নির্দিষ্ট সময় ধান লাগালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই সেচ প্রকল্পের আওতাধীন জমিতে আজ রবিবার পর্যন্ত ২৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে।
দুটি সেচ প্রকল্পের পাম্পগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, দুটি সেচ প্রকল্পের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে পাম্প হাউজ। এগুলো ৪৫ বছরের পুরোনো। মেরামত করে চালু রাখা হয়েছে। তারপরেও কৃষকেরা যাতে সঠিক সময়ে পানি পায়, সেই চেষ্টা আমাদের অব্যাহত ছিলো এবং আগামীতেও থাকবে।