শিরোনাম

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলা, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মালদ্বীপের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম আজ মালেতে ইউনিসেফ মালদ্বীপ আয়োজিত কপ-৩১ (ইয়ুথ ট্র্যাক টু কপ-৩১) কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সরকারের এই দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
আজ মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কর্মসূচিতে মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি মন্ত্রী আলী শরীফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার জলবায়ু কার্যক্রমে তরুণদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ উভয় দেশই জলবায়ু পরিবর্তনের অভিন্ন ঝুঁকিতে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের অবক্ষয় এবং পরিবেশগত নানা প্রতিকূলতা দুই দেশের মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলছে। এসব অভিন্ন চ্যালেঞ্জই জলবায়ু অভিযোজন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সহনশীলতা বৃদ্ধিতে দুই দেশের সুদৃঢ় অংশীদারিত্বের প্রধান ভিত্তি।’
হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরে নিজস্ব জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উভয় দেশ তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জলবায়ু অভিযোজন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক বনায়ন, ব্লু ইকোনমি এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে যৌথভাবে কাজ করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু অর্থায়ন ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিতে মালদ্বীপের সাথে যৌথ ও বহুপাক্ষীয় কূটনৈতিক প্রয়াস অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ।
তরুণ সমাজকে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাত মোকাবিলায় উদ্ভাবনী পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে হাইকমিশনার 'ইয়ুথ ট্র্যাক টু কপ-৩১' কর্মসূচির জন্য ইউনিসেফ মালদ্বীপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সাথে আরো সহনশীল, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নির্মাণে মালদ্বীপ সরকার ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।