শিরোনাম
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): শিক্ষা ও গবেষণায় নৈতিকতা, মৌলিকত্ব এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের সকল পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অভিন্ন চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার অংশ হিসেবে আজ ইউজিসি ভবনে দেশের ১৮টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মনোনীত প্রতিনিধিদের নিয়ে এক অংশীজন সংলাপের আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে পৃথক নীতিমালা থাকলেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ফ্রেমওয়ার্ক নেই। এ বাস্তবতায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এটি সরাসরি অনুসরণ করতে পারবে কিংবা এর আলোকেও নিজস্ব বাস্তবতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারবে, যাতে তাদের অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা বজায় থাকে।’
তিনি জানান, সংলাপে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো খসড়া নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় চূড়ান্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে তা বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব গবেষণায় নৈতিকতা ও জবাবদিহির গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, গবেষণায় নৈতিকতা লঙ্ঘনসহ নানা কারণে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নাল থেকে বাংলাদেশি গবেষকদের অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি হলে গবেষণার মান ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংলাপে নীতিমালার আওতায় চৌর্যবৃত্তির ধরন, শনাক্তকরণ, তদন্ত, দায় নির্ধারণ, শাস্তির বিধান এবং আপিল প্রক্রিয়ার পাশাপাশি গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন ও অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিচালক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।