বাসস
  ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৩৪

লুণ্ঠন-ধান্দাবাজির অর্থনীতি ছেড়ে উৎপাদনমুখী হওয়ার আহ্বান মাহবুব উল্লাহর

ছবি: বাসস

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : লুণ্ঠন ও ধান্দাবাজির অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশে টেকসই উৎপাদন ও উন্নয়নমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।

আজ (বুধবার) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে ‘অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ: আগামী দিনের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান।

ইআরএফ ও গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে। ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাচার হওয়া পুঁজিকে আবার বাংলাদেশমুখী করতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির ‘রক্তক্ষরণ’ বন্ধে কার্যকর নীতি ও কৌশল গ্রহণ জরুরি।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ ও মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, সড়ক, সেতু, রেলপথ বা বন্দর নির্মাণের মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্পের সুফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বাজারে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রবাহিত হলেও সেই তুলনায় উৎপাদন বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়েনি।

তিনি বলেন, এর ফলে মুদ্রা সরবরাহ ও উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে তা ডলারে রূপান্তর করে বিদেশে পাচারের কঠোর সমালোচনা করে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, সম্প্রতি দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে পুঁজি পাচারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পুঁজি দেশে বিনিয়োগ না হয়ে বিদেশে চলে গেলে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। 
পুঁজি পাচারকে অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ‘রক্তক্ষরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবিলম্বে এটি বন্ধ করা না গেলে জাতীয় অর্থনীতি আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

দেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ড. মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, বিদেশফেরত প্রবাসী শ্রমিকদের উদ্যোগে দেশে জমি লিজ নিয়ে উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় ধারা তৈরি হয়েছে। দেশের সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তার স্বার্থে এ খাতের বিস্তার ও সম্ভাবনা নিয়ে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ এবং খোঁজখবর রাখা প্রয়োজন।

অনানুষ্ঠানিক খাতের ব্যাপক আয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতে প্রচুর আয় তৈরি হলেও চাঁদাবাজির কারণে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ঢাকা শহরের হকারদের উদাহরণ দিয়ে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, চাঁদাবাজদের চাঁদা না দিয়ে কোনো হকারের পক্ষে ব্যবসা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিনা উৎপাদনে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সংস্কৃতি বা ধান্দাবাজির অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎপাদনশীল ধারায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।

প্রকৃত ও সৎ উদ্যোক্তাদের দেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেন ড. মাহবুব উল্লাহ।