বাসস
  ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২২:৫৩

বার্ধক্যে আর্থিক নিরাপত্তায় সর্বজনীন পেনশন গুরুত্বপূর্ণ : ড. মো. সুরাতুজ্জামান

ছবি: বাসস

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেছেন, বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম অবলম্বন হিসেবে সর্বজনীন পেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে সর্বজনীন পেনশন সেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

মাদারীপুরে আজ দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলার আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় পেনশন স্কিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে বার্ধক্যে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে।’

তিনি বলেন, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে পেনশন স্কিমে সঞ্চয় করতে পারবেন এবং ৬০ বছর বয়সে পেনশন হিসেবে সেই অর্থের সুবিধা পাবেন। জীবনের যে সময়ে আর্থিক সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন এই পেনশন একজন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো পেনশন গ্রাহক ৬০ বছর বয়সের আগে মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ ফেরত পাবেন। আয়-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো গ্রাহকের নিয়মিত চাঁদা প্রদানে অসুবিধা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী চাঁদার পরিমাণ কম-বেশি করারও সুযোগ রয়েছে।

ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, ‘আপনাদের গচ্ছিত এই টাকা আপনাদেরই ফেরত দেওয়া হবে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এ ধরনের পেনশন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পেনশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব শরীফ নজরুল ইসলাম। আলোচনা সভার শুরুতে জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অতিথিদের স্বাগত জানান।

আলোচনা সভায় আগত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সংশয়ের কথা তুলে ধরেন। পরে, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের আশ্বস্ত করেন।

বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় দেশের সব জনগণকে সম্পৃক্ত করতে সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়। মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের স্টল ছিল।

উল্লেখ্য, ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ সকাল ১০টায় মাদারীপুর জেলার সমন্বিত অফিস প্রাঙ্গণের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মোড় হয়ে ১০ তলা সমন্বিত অফিস প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

পরে, ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন ড. মো. সুরাতুজ্জামান। এরপর সরকারি সমন্বিত ভবনের মাল্টিপারপাস হলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।