বাসস
  ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২১:৪৩

বাংলা একাডেমিতে গাজী শামছুর রহমান স্মারক বক্তৃতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

ছবি : বাংলা একাডেমি

ঢাকা,২৪ আগস্ট,২০২৬(বাসস) : বাংলা একাডেমিতে আইনবিদ গাজী শামছুর রহমান স্মারক বক্তৃতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ‘প্রত্যাবর্তন : স্থাপত্যে প্রকৃতি ও ভাব দর্শনের সংমিশ্রণ’ শীর্ষক বক্তৃতা করেন স্থপতি রফিক আজম।

বাংলা একাডেমির ফেলো ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাতের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। 

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, গাজী শামছুর রহমান ছিলেন প্রথিতযশা আইনবিদ ও বাংলা একাডেমির এককালীন সভাপতি। মানব মঙ্গলের জন্যই আইনকানুন-এই বোধ তিনি যেমন তার চিন্তা ও সক্রিয়তায় প্রকাশ করেছেন সবসময় তেমনি তার স্মরণে আজকের স্মারক বক্তৃতার বিষয় হিসেবেও বেছে নেয়া হয়েছে স্থাপত্যকলায় মানবিক প্রকৃতিলগ্ন অঙ্গীকারের বিষয়কে, যা এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

স্থপতি রফিক আজম তার বক্তৃতায় বলেন, প্রত্যাবর্তন মানে অতীতে ফিরে গিয়ে বসবাস করা নয়। অতীতের কোনো স্থাপত্যের অবিকল অনুকরণও নয়। সোমপুর মহাবিহারের ইটের নকশা কিংবা বাংলার কুটিরের চালা হুবহু নকল করলেই বাংলার সমকালীন স্থাপত্য তৈরি হবে না। প্রত্যাবর্তন হলো আমাদের হারিয়ে যাওয়া প্রশ্নগুলোর কাছে ফিরে যাওয়া। ওয়ারী-বটেশ্বর, পুণ্ড্রবর্ধন, সোমপুর মহাবিহার কিংবা বিক্রমপুরের অতীশ-স্মৃতিবাহী ঐতিহাসিক ভূদৃশ্যের দিকে তাকানো তাই-নিছক প্রত্নতাত্ত্বিক অতীতের দিকে তাকানো নয়। বাংলার কুটির, উঠান, পুকুর, ঘাট, বাগান কিংবা চর্যার দেহরূপকের দিকে ফিরে তাকানোও কোনো নস্টালজিয়া নয়। এগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়-এই ভূখণ্ডের বহু ঐতিহাসিক নির্মাণ ও ভাবচর্চায় প্রকৃতি, জীবন এবং দর্শনের মধ্যে গভীর যোগসূত্র ছিল। 

তিনি বলেন, আজকের স্থাপত্যবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের অর্জনকে সঙ্গে নিয়েই যদি আমরা সেই অন্তর্দৃষ্টির দিকে আবার চোখ ফেরাতে পারি, তবে হয়তো আমাদের স্থাপত্য নতুন অর্থে আধুনিক হয়ে উঠতে পারে। কারণ প্রকৃত আধুনিকতা স্মৃতিহীনতা নয়; বরং দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে নতুন জ্ঞানে রূপান্তর করার ক্ষমতা। এই প্রত্যাবর্তন কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বা হারিয়ে যাওয়া স্থাপত্যরীতিতে ফিরে যাওয়া নয়। এটি মাটির কাছে ফিরে যাওয়া, জলের কাছে ফিরে যাওয়া, আলো ও বাতাসের কাছে ফিরে যাওয়া; স্মৃতির কাছে, মানুষের কাছে এবং শেষ পর্যন্ত নিজের কাছে ফিরে যাওয়া।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. সাইমন জাকারিয়া।