শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অসুস্থ ও দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়ে দেশে প্রত্যাগত দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)।
আজ বোয়েসেলের কনফারেন্স রুমে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রত্যাগত কর্মী আব্দাল মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা এবং শিল্প দুর্ঘটনায় অঙ্গহানির শিকার শরীফ আল মীমকে এক লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।
এ সময় বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া দুই ভাই কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। তারা বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের মধ্যে চলমান ইপিএস (এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম) কর্মসূচির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বোয়েসেল তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। চলমান সময়ে আমরা প্রায় ১৭ জনকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী সবসময় একটি মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন। সেই মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই আজ আমরা এই দুই ভাইকে ডেকেছি এবং তাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করছি।
রাশেদুল হক বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এসব রেমিট্যান্স যোদ্ধার যথাযথ সম্মান ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তাদের চিকিৎসার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, আমার পক্ষ থেকে তা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই দুই ভাই বর্তমানে যেখানে অবস্থান করছেন, সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। তাদের প্রয়োজনীয় ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বোয়েসেল সর্বাত্মকভাবে সচেষ্ট থাকবে।
বোয়েসেল জানায়, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের মধ্যে সম্পাদিত জি-টু-জি ব্যবস্থার আওতায় ২০০৮ সাল থেকে কোরীয় নিয়োগকর্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ে উচ্চ বেতনে বাংলাদেশি কর্মীরা দক্ষিণ কোরিয়ায় গমন করে আসছেন। এ পর্যন্ত মোট ৩৮ হাজার ৫৯ জন বাংলাদেশি কর্মী ইপিএসের আওতায় বোয়েসেলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন।
ইপিএস কর্মীদের শ্রমচুক্তির শর্ত, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত আইন ও কর্মস্থলের নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে প্রতিপালন এবং কর্মসংস্থান শেষে নির্ধারিত সময় ও নিয়ম অনুযায়ী দেশে প্রত্যাবর্তনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে এইচআরডি কোরিয়ার পরামর্শ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে কর্মীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে ফেরতযোগ্য জামানত গ্রহণ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অসুস্থতার কারণে দেশে প্রত্যাগত আব্দাল মিয়া এবং শিল্প দুর্ঘটনাজনিত অঙ্গহানির কারণে দেশে ফেরা শরীফ আল মীমের ফেরতযোগ্য জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি বোয়েসেলের সিএসআর ফান্ড থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আব্দাল মিয়ার অসুস্থতা ও আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে বোয়েসেলের সিএসআর ফান্ড থেকে তাকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা এবং শরীফ আল মীমের অঙ্গহানি, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও ভবিষ্যৎ জীবনে এর আর্থিক প্রভাব বিবেচনায় তাকে অতিরিক্ত এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।
বোয়েসেল আরও জানায়, এ পর্যন্ত দেশে প্রত্যাগত মোট ১৭ জন ইপিএস কর্মীকে বোয়েসেলের সিএসআর ফান্ড থেকে সর্বমোট ২০ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বোয়েসেলের সিএসআর ফান্ড থেকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রত্যাগত অসুস্থ ও দুর্ঘটনাগ্রস্ত কর্মীদের এ সহায়তা অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, অঙ্গহানি ও কর্মক্ষমতা হারানোর মতো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়া কর্মীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের মানবিক দায়বদ্ধতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
বিদেশে কর্মরত অবস্থায় গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দেশে প্রত্যাগত কর্মীদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং পরিবারের আর্থিক চাপ মোকাবিলায় এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী কর্মীরা কর্মজীবনে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার কারণে বিপদগ্রস্ত হলে তাদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক মানবিক দায়িত্বের অংশ বলেও উল্লেখ করে বোয়েসেল।