শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে কিংবা আশপাশের কোনো সড়কে পশুর হাট বসানোর জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, 'সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টির সময় কিছু ব্যবসায়ী সাময়িকভাবে আশ্রয় নিলেও পরে তাদের নির্ধারিত হাট এলাকায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং বর্তমানে মেট্রোর আশপাশে কোনো পশু কেনা-বেচা চলছে না।'
উত্তরা দিয়াবাড়ি পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী আজ এসব কথা বলেন। এসময় তিনি সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ এই মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বা আশেপাশের কোনো জায়গা হাটের জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি। গত দুইদিন আগে হঠাৎ ভারি বৃষ্টির কারণে কিছু ব্যবসায়ী গরু নিয়ে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আশ্রয় নিয়েছিল। পরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিজে এসে রাস্তা থেকে পশু সরিয়ে হাটের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গেছেন।'
তিনি আরও বলেন, সরকার বা সিটি কর্পোরেশন এ ধরনের অননুমোদিত কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দিচ্ছে-এমন ধারণা সঠিক নয়। এ বিষয়ে প্রশাসন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, 'আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তিন দিন আগের একটি ভিডিও ভাইরাল করে সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আপনারা সরেজমিনে এসে দেখে যান, পশু কেনা-বেচা হাটের ভেতরেই চলছে।'
তিনি জানান, কিছু পশু সড়কে উঠে আসায় কয়েকটি স্থান নোংরা হয়ে পড়েছিল। তবে সকাল থেকেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'এখানে সার্বক্ষণিক সিটি কর্পোরেশনের লোকজন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। মেট্রোর আশেপাশে কোনো পশু কেনা-বেচা চলবে না।
আমরা সরিয়ে দিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো কর্মকাণ্ড হতে দেওয়া হবে না।'
তিনি আরও বলেন, সরকার বারবার ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছে, যাতে নির্ধারিত সীমানার বাইরে কোনো হাট না বসে। কোনো অনিয়ম নজরে আসামাত্র তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমরা বারবার বলেছি, নির্ধারিত সীমানার বাইরে হাট বসবে না। যখনই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, তখনই ব্যবস্থা নিয়েছি। জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।'
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, বৃষ্টির সময় কিছু ব্যবসায়ী পশু নিয়ে সেখানে অবস্থান নিলেও দ্রুত তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির সময় কিছু ব্যবসায়ী তাদের গরু নিয়ে সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। আমরা সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে দিয়েছি। পরবর্তীতে আবার বসেছে জানতে পেরে রাত দেড়টায় আবার ঘটনাস্থলে এসে ব্যবস্থা নিয়েছি। আজ সকাল থেকেই ক্লিনিং কার্যক্রম চলছে।'
ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, 'এই জায়গা আমরা ইজারা দেইনি। যারা সেখানে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ইজারাদারদের সাথেও এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে।'