শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহার জামাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লি অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা আংশিকভাবে ফাঁকা হয়ে পড়ে। এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
আজ (বুধবার) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রীপরিষদের সদস্য, ঢাকাস্থ মুসলিম দেশের কূটনীতিক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ঈদের নামাজ আদায় করবেন। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য জাতীয় ঈদগাহে মোট ৫টি গেট রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৪টি পুরুষ এবং ১টি নারী মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসি’র ডগ স্কোয়াড (ক-৯) দ্বারা সুইপিং করা হবে। পুরো ঈদগাহ এলাকা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং ডিএমপির অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানান, ঈদগাহের সকল প্রবেশপথে আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল তল্লাশি ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দানের চারপাশে পিকেটিং ও লাইনিং ব্যবস্থা থাকবে। জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের প্রধান তিনটি পয়েন্টে বিশেষ তল্লাশি ও ব্যারিকেড ব্যবস্থা থাকবে। এগুলো হল: মৎস্য ভবন ক্রসিং , প্রেস ক্লাবের সামনে, হাইকোর্ট ক্রসিং। এছাড়াও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
ঈাশাপাশি ড্রোন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে আকাশপথ থেকেও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসি’র সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে নিয়োজিত থাকবেন। সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে।
তিনি বলেন, নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, পৃথক প্রবেশ গেট ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার প্রস্তুত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইমার্জেন্সি মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে।
এছাড়াও জাতীয় ঈদগাহের অভ্যন্তরে পুলিশ সাব-কন্ট্রোল রুমে ‘লস্ট এন্ড ফাউন্ড সেন্টার’ স্থাপন করা হবে। হারানো ও প্রাপ্তির তথ্য সেখানে সংরক্ষণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করা হবে।
ঢাকা মহানগরীর অন্যান্য ঈদগাহে সংশ্লিষ্ট ক্রাইম বিভাগ আয়োজক কমিটির সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ঈদুল আযহা উপলক্ষে আগামীকাল সকাল ৬টা থেকে ঈদের নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঈদগাহ এবং আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ঈদগাহে আসা এবং নিরাপত্তাজনিত তল্লাশিতে সহযোগিতা করা; গাড়িযোগে আগত মুসল্লিদের রোড ব্লক এলাকায় নেমে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ এবং নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্ক করা এবং জাতীয় ঈদগাহ কেন্দ্রিক ট্রাফিক ডাইভারশন ও পার্কিং নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান ডিএমপি কমিশনার।
তিনি জানান, শুধু জায়নামাজ এবং প্রয়োজনে ছাতা সঙ্গে নিয়ে আসা যাবে। কিন্তু কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা অপ্রয়োজনীয় ধাতব বস্তু বহন করা যাবে না। জামাত শেষে তাড়াহুড়ো না করে সবাইকে সুশৃঙ্খলভাবে বের হতে হবে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোরও আহ্বান জানান তিনি।
মোসলেহ্ উদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটিতে নগরীর অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় সেখানে নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল ও মোটরসাইকেল পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভির মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিংমল, মার্কেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক এলাকা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মীদের ডিউটি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরবাসীর জানমাল রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
ডিএমপির এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও বলেন, গণমাধ্যম সবসময় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিএমপির নিরাপত্তা নির্দেশনা জনগণের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান তিনি।
এসময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।