শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ মে, ২০২৬ (বাসস) : অর্থাভাবে অনার্স শেষ বর্ষে ভর্তি অনিশ্চয়তায় পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন মো. তরিকুল ইসলাম তারিক। তার ব্যক্তিগত আর্থিক সহায়তায় শেষ পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।
তারিক বর্তমানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।
সহায়তাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। রোববার ছিল তার অনার্স শেষ বর্ষে ভর্তির শেষ দিন। তবে পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও ভর্তি ফি জোগাড় করতে পারেননি তিনি। এতে তার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
জানা গেছে, সংকটময় এই পরিস্থিতিতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নিজ এলাকার এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে তারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। বিষয়টি জানার পর তারিক সরাসরি বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠিয়ে দেন, যার ফলে শেষ সময়ের মধ্যেই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘টাকার অভাবে আমার পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তারিক ভাই যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি নতুন করে পড়াশোনার অনুপ্রেরণা পেয়েছি। অতীতেও তার মানবিক কাজের কথা শুনেছিলাম বলেই তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলাম।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারিক বলেন, ‘রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শুধুমাত্র অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে-এটি মেনে নেওয়া যায় না। তাই এই মুহূর্তে নিজে কিছুটা আর্থিক সংকটের মধ্যে থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেবা করা এবং সংকটে তাদের পাশে দাঁড়ানো।’
শিক্ষার্থীর প্রতি তারিকের এই মানবিক উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে দায়িত্বশীল ও মানবিক ছাত্ররাজনীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে তার এই সহায়তা শুধু একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতেই ভূমিকা রাখেনি, বরং মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক ছাত্রনেতৃত্বের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।