বাসস
  ১৭ মে ২০২৬, ১৮:২১

ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে রাজধানীতে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস উদযাপিত

ছবি : বাসস

ঢাকা, ১৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : ‘ডিজিটাল জীবনধারা : সংযোগে স্থিতি, সহনশীলতায় শক্তি’ প্রতিপাদ্যে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। 

আজ রোববার আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনের প্রধান সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সেমিনারে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, সংযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ কিলোমিটার সাবমেরিন ফাইবার অপটিক ক্যাবল বিস্তৃত রয়েছে, যা দিয়ে বিশ্বের ৯৯ শতাংশ ডাটা ট্রাফিক সম্পন্ন হয়। ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও সহনশীল করার ওপর জোর দেন তিনি। স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উদ্ভাবনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রকে বর্তমান সরকার দেশের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি সম্ভাবনার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। 

তিনি জানান, দেশে বর্তমানে মোবাইল সংযোগ ১৮.৮৪ কোটি এবং ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ১৩.৩৬ কোটিতে পৌঁছেছে। দেশের ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখন ৪জি নেটওয়ার্কের আওতায়। এআই, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার, সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা সেন্টার এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার লক্ষ্য সরকারের।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বাংলাদেশ মোবাইল গ্রাহকের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারাদেশে শক্তিশালী ৫জি নেটওয়ার্ক ও বিস্তৃত ফাইবার অপটিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তিনি ‘এক নাগরিক, এক ওয়ালেট, এক আইডি’, জাতীয় ডেটা ব্যাংক এবং সরকারি সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধির উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ডিজিটাল জগতে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়োপযোগী চ্যালেঞ্জ। মিসইনফরমেশন প্রতিরোধ ও নিরাপদ ডিজিটাল স্পেস গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন তিনি। আইসিটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে সরকার নানামুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি প্রশাসনিক সেবা জনগণের কাছে আরো দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। দেশের বিমানবন্দরগুলোয় আধুনিক ডিজিটাল সুবিধা ও ফ্রি ওয়াইফাই সম্প্রসারণের চলমান উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। 
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক ডেটা ট্রানজিট সুবিধায় বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সেবার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোর সক্ষমতা আরো বাড়িয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বমানের ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় শক্তিশালী ডিজিটাল নেটওয়ার্ক মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব, সাইবার নিরাপত্তা, পেপারলেস প্রশাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, স্যাটেলাইট ডাটা ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ডিজিটাল সংযোগ এখন দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক সেবার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, এআই, আইওটি, ৫জি, ক্লাউড কম্পিউটিং ও বিগ ডেটা প্রযুক্তি আগামী দিনের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এ উপলক্ষ্যে আইটিইউ মহাসচিব ডোরিন বোগডান-মার্টিন ভিডিও বার্তায় বলেন, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এখন মানুষের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করছে। শক্তিশালী অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দিবসটি উপলক্ষ্যে তিনটি বিভাগে অনলাইন রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রকাশ করা হয় বিশেষ ক্রোড়পত্র, স্মারক ডাকটিকিট, প্রযুক্তিভিত্তিক স্মরণিকা এবং বিভিন্ন টেলিভিশনে টকশো প্রচার করা হয়। ১৭ ও ১৮ মে দুইদিনব্যাপী বিটিআরসি প্রাঙ্গণে টেলিকম ও প্রযুক্তি মেলায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

১৮৬৫ সালের ১৭ মে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রতিষ্ঠার পর ২০০৬ সাল থেকে এ দিনটি বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৯৪টি সদস্য দেশে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে।