বাসস
  ১৭ মে ২০২৬, ১৮:১১

টোল-ফ্রি এসএমএসে বন্যার পূর্বাভাসের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড

ঢাকা, ১৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : দেশের বন্যাপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে বন্যার পূর্বাভাস পৌঁছে দিতে টোল-ফ্রি এসএমএস সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো’র বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়–য়া বাসস-কে বলেন, টোল-ফ্রি এসএমএসের মাধ্যমে বন্যার পূর্বাভাস প্রচারের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডকে (বিটিসিএল) চিঠি পাঠিয়েছি।

তিনি জানান, বন্যাপ্রবণ প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করে না এবং তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা সম্পর্কিত বার্তা পাঠাতে টোল-ফ্রি এসএমএস সেবা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।

পার্থ প্রতীম জানান, এই এসএমএস সেবা চালু করার আগে মোবাইল অপারেটরদের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের একটি বিষয় রয়েছে। তাই এ বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের সাথে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, এসএমএসের মাধ্যমে বন্যার পূর্বাভাস পাঠানো সম্ভব হলে বন্যাকবলিত এলাকায় বসবাসকারী প্রান্তিক মানুষ আগাম প্রস্তুতি নিতে পারবেন এবং এতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। 

দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর পাউবো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা’ চালু করে। এই ব্যবস্থা দেশের বন্যা পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। এ ব্যবস্থা বন্যা-প্রবণ এলকার মানুষকে বন্যা আসার তিন দিন থেকে তিন ঘণ্টা আগে ‘পুশ নোটিফিকেশন’ দিয়ে সতর্ক করে।

পাউবো, এটুআই, প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যৌথভাবে এ ব্যবস্থা তৈরি করে।

এফএফডব্লিউসি কর্মকর্তারা জানান, ২০২০ সালের জুনে পরীক্ষামূলকভাবে ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মা অববাহিকায় ১৪ জেলায় এ ডিজিটাল বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা চালু করা হয়। বর্তমানে এটি দেশের ৫৫ জেলায় কার্যকর রয়েছে।

পার্থ প্রতীম বলেন, এফএফডব্লিউসি বর্তমানে ১২৭টি স্টেশনের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ৫৫টি স্টেশনে বন্যার আগাম সতর্ক বার্তা দিচ্ছে।

তিনি জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থায় বন্যাকবলিত এলাকার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে বন্যা আঘাত হানার তিন দিন থেকে তিন ঘণ্টা আগে এসএমএস নোটিফিকেশন পাঠানো সম্ভব।

পাউবো’র কাছে বন্যা-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। তারা এ তথ্য গুগলকে পাঠায়। গুগল তাদের ট্রপোগ্রাফিকাল ডেটা ব্যবহার করে বন্যা মানচিত্র উন্নত করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে ‘পুশ ফ্লাড নোটিফিকেশন’ পাঠায়।

গুগলের প্রযুক্তিগত সহায়তায় এখন ডিজিটাল বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার মাধ্যমে সব স্টেশনে বন্যা তথ্য ও পূর্বাভাস পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। বিডব্লিউডিবি কর্মকর্তাদের মতে, বন্যা-সংক্রান্ত সতর্কতা এখন গুগল ম্যাপ ও গুগল ফিডেও পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া পাউবো, এটুআই, গুগল, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যৌথভাবে কাজ করছে, যাতে দ্রুততম সময়ে বন্যাপ্রবণ এলাকার প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় বন্যা সতর্কতা ও তথ্য পৌঁছে দেওয়া যায়।

বন্যা বাংলাদেশের একটি সাধারণ ঘটনা। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা আঘাত হানে, যার ফলে জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অতীতে বিশেষ করে ১৯৫১, ১৯৮৭, ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালের  বন্যায় দেশে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়। 

২০০৭ সালের দক্ষিণ এশীয় বন্যায় বাংলাদেশের একটি বিশাল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত ও অবকাঠামো-বহির্ভূত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।