বাসস
  ১৩ মে ২০২৬, ১৯:৫৬
আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ১৯:৫৮

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের জীবনবৃত্তান্ত

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ফাইল ছবি

ঢাকা, ১৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র একজন বিশিষ্ট রাজনীতিক ও জ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি ফরিদপুর জেলার এক বিশিষ্ট রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী এবং বিএনপি’র সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা।

শৈশব থেকেই তিনি শিক্ষাগত উৎকর্ষ অর্জনের পাশাপাশি দেশের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগের গভীর দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হন। তার পিতা তাকে বিশ্বাস করাতেন যে সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় নৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমেই জনগণের সর্বোত্তম সেবা করা সম্ভব। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি সবসময় এ নীতিগুলো অনুসরণের চেষ্টা করেছেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ  থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে ইউনিভার্সিটি অব ফিনিক্স থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট ইউনিয়ন ব্যাংকে কম্পিউটার বিজ্ঞানী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। সেখানে আর্থিক ও প্রযুক্তি খাতে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের পর দেশে ফিরে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের সেবা ও বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সাতজন নারী সংসদ সদস্যের একজন। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

দলীয় পর্যায়ে তিনি বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির (বৃহত্তর ফরিদপুর বিভাগ) সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দলের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে’ দমন-পীড়ন, সহিংসতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও তিনি ধারাবাহিকভাবে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম ‘জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’-এর সভাপতি। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের নিয়ে ১৯৯৭ সালে গঠিত এ সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম তিনি ঢাকাসহ দেশের ৩৫টি জেলায় সম্প্রসারিত করেছেন।

তার নেতৃত্বে সংগঠনটি সীমান্ত হত্যা (ফেলানী হত্যাকাণ্ডসহ), শেয়ারবাজার ধস, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে।

দেশে যখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কঠোরভাবে সীমিত ছিল, তখন তিনি ‘ইয়ুথ মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি’ নামে একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্মের অধীনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার ও গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন। এসব অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল- গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। তিনি ২০১৩ ও ২০১৪ সালে চীনা সরকারের আমন্ত্রণে বিএনপি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে চীন সফর করেন এবং ২০১৫ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত সিল্ক রুট-বিষয়ক এশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সমাপনী অধিবেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

২০১৯ সালে তিনি ভারত সফরে একটি যুব নেতৃত্ব প্রতিনিধি দলে অংশ নেন এবং পরে নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন।

বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালুর বিষয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেন, যেখানে ইভিএম ব্যবস্থার ঝুঁকি ও সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়।

রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তিনি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়। তিনি জাতিসংঘের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেভ দ্য চিলড্র্রেনের প্রকল্পসহ শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তায় কাজ করা বিভিন্ন এনজিওর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

তিনি যুবনেতৃত্বাধীন থিংকট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর প্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসি ফাউন্ডেশন)-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।