বাসস
  ০৯ মে ২০২৬, ২০:৩৯

এবার বর্ষাকালে চট্টগ্রাম শহর ৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত থাকবে : চসিক মেয়র

ছবি : বাসস

চট্টগ্রাম, ৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম শহরে পূর্বের বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং এবার বর্ষাকালে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, কাজেই এখানে আমি কোনো নিরাশা দেখি না। শুধু একটা বিষয়কে ভয় পাচ্ছি ওই যে জোয়ার, যেটা আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণে নেই।

আজ শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম নগর জলাবদ্ধতা সংকটের উৎস ও নাগরিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ২০২৩ বা ২০২৪ সালে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজার এলাকার মানুষ যেভাবে পানির জন্য বন্দি হয়ে পড়েছিল, ২০২৫ সালে সেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং মানুষ বের হতে পেরেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বৈশাখ মাসে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ধরে হওয়া একনাগাড়ে ভারী বৃষ্টিপাত ছিল অভাবনীয়, যা অতীতে সচরাচর দেখা যায়নি। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লন্ডনের বার্মিংহামের মতো উন্নত শহরেও অতিবৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে মেয়র ডা. শাহাদাৎ বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ করছে। হিজড়া খাল, জামালখান খাল ও রামপুরা খালসহ বিভিন্ন খালে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। সেই বাঁধগুলো সময়মতো না খোলার কারণেই মূলত শহরে পানি জমেছে। জোয়ারের পানি এবং বৃষ্টির পানি যখন একসাথে হয়, তখন তা মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সেবা সংস্থাগুলোর কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে মেয়র বলেন, আমি একজন প্র্যাকটিক্যাল মানুষ। যেদিন আমি দেখব আমি পারছি না, সেদিন নিজেই বিদায় নেব। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাব।

বর্তমানে নগরের নালা-নর্দমা পরিষ্কারে চসিকের পক্ষ থেকে দুই মাসব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রাম চলছে বলে জানান মেয়র। তিনি নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, স্লুইস গেট ও পাম্পিং স্টেশনগুলোর কাজ শেষ হলে আগামীতে নগরবাসী আরও সুফল পাবেন। চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে খালের গতি-প্রকৃতি তাঁর চেনা এবং নগরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে তিনি বদ্ধপরিকর বলেও জানান ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সেমিনার উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এনটিভির ব্যুরো প্রধান শামসুল হক হায়দরী।

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ ও চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটনের যৌথ সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. আল আমিন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আয়েশা খানম ও বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. মনজুরুল কিবরিয়া।

আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস এম নসরুল কদির, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি জেরিনা হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জি. দেলোয়ার মজুমদার, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও ফোরাম ফর প্ল্যানড চট্টগ্রামের সভাপতি প্রফেসর ড. সিকান্দর খান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহ নওয়াজ, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, রাশিয়ান অনারারী কনসালটেন্ট স্থপতি আশিক ইমরান, ঈসা আনসারী, অভিক ওসমান প্রমুখ।