বাসস
  ২৯ মে ২০২৬, ১৮:২৪
আপডেট : ২৯ মে ২০২৬, ১৮:৩০

ঈদুল আযহার ছুটিতে চট্টগ্রামে বিনোদনকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়

পবিত্র ঈদুল আযহার পরদিন চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দেখা গেছে মানুষের ঢল। ছবি : বাসস

চট্টগ্রাম, ২৯ মে, ২০২৫ (বাসস) : পবিত্র ঈদুল আজহার পরদিন চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দেখা গেছে মানুষের ঢল। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের ছুটিকে ঘিরে সকাল থেকেই পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, ফয়’স লেক, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, পারকি সৈকত, গুলিয়াখালী সী বিচ ও ভাটিয়ারি সানসেট পয়েন্টে ছিল উৎসবমুখর ও উপচে পড়া ভিড়।

সকাল থেকেই এসব বিনোদনকেন্দ্রে হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ। কোথাও ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ঘুরছেন পর্যটকরা, কোথাও আবার সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত শিশু-কিশোর ও তরুণরা। ফয়’স লেকে নৌকাভ্রমণ ও বিভিন্ন রাইডেও ছিল দীর্ঘ ভিড়।

চট্টগ্রাম শহরের এক পাশে পাহাড়। অন্য পাশে সমুদ্র। তাই একটু অবসর পেলেই এই শহর যেন ডাক দেয় ঘুরে বেড়াতে। অবশ্য শুধু পতেঙ্গা নয়, ঈদের ছুটিতে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন কাছাকাছি আরও নানা পর্যটনকেন্দ্রে। কোথাও আছে ঢেউয়ের গর্জন। কোথাও পাহাড়ের নীরবতা। কোথাও আবার সবুজের শান্ত ছায়া।

পাহাড়ের সবুজ ছায়া আর শান্ত হ্রদ ঘেরা ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ঈদের ছুটিতে হয়ে ওঠে সরগরম। শিশু-কিশোর থেকে বড়রা- সব বয়সী দর্শনার্থীর ভিড় থাকে এখানে। এবারও ঈদ ঘিরে নানা আয়োজন করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। আছে বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, পাইরেট শিপ, ফেরিস হুইলসহ নানা রাইড। ছোটদের জন্য রয়েছে হ্যাপি জাম্প, সার্কাস ট্রেন, বাম্পার বোটস ও বেবি ড্রাগন।

ফয়’স লেকের বড় আকর্ষণ এখন ‘বেসক্যাম্প’। এখানে আছে ট্রি টপ অ্যাকটিভিটি, কায়াকিং, টিম গেমসহ নানা অ্যাডভেঞ্চার আয়োজন। যারা একটু রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তাদের জন্য জায়গাটি হতে পারে দারুণ অভিজ্ঞতা।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রবেশপথে দেখা যায় দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন। পাহাড়ের গা বেয়ে ওপরে উঠলেই দেখা মিলবে বাঘ, সিংহ, হরিণ, ময়ূর কিংবা কুমিরের। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এখন প্রায় ৭০ প্রজাতির ৫২০টি পশুপাখি রয়েছে।

অন্যদিকে আনোয়ারার পারকি সৈকত ও সীতাকু-ের গুলিয়াখালী সী বিচেও দিনভর ছিল পর্যটকদের সরব উপস্থিতি। বিকেলের দিকে ভাটিয়ারি সানসেট পয়েন্টে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে জড়ো হন অসংখ্য দর্শনার্থী। নগরের বাইরে থেকেও অনেক মানুষ ঈদের ছুটিতে এসব স্থানে বেড়াতে আসেন।

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা ফোরকানুল হক বলেন, “ঈদের পরদিন পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি। অনেকদিন পর সবাই একসঙ্গে সময় কাটাতে পেরে ভালো লাগছে।”

ফয়’স লেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা কলেজছাত্রী নুসরাত জাহান বলেন, “ঈদের ছুটিটা উপভোগ করতে এখানে এসেছি। আজকে অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। সবাই খুব আনন্দ করছে।”

বাড়তি ভিড় সামাল দিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও টুরিস্ট পুলিশের টহল বাড়ানো হয় বিভিন্ন স্পটে। পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ট্যুরিস্ট পুলিশের পতেঙ্গা জোনের (সাব-জোন) ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. হাসান ইমাম বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীরা যেন নির্বিঘেœ ঘুরতে পারেন, সে জন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে শিশু-কিশোরদের আনন্দ উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ ঘোড়ার গাড়িতে চড়ছেন, কেউ সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত। একইভাবে ফয়’জ লেকে নৌকাভ্রমণ ও বিভিন্ন রাইডে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।

আনোয়ারার পারকি সৈকত এখন চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। কর্ণফুলী টানেল চালুর পর যাতায়াতও অনেক সহজ হয়েছে। এখন অল্প সময়েই পৌঁছে যাওয়া যায় সৈকতে। এক পাশে ঝাউবন, অন্য পাশে লোনাপানির ঢেউ। বিকেলে সূর্যাস্তের সময় পুরো সৈকত যেন অন্য রকম সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। সমুদ্রপাড়ে বসে ঝালমুড়ি খেতে খেতে শুনতে পারেন ঢেউয়ের শব্দ। সৈকতের পাশে আছে ছায়াঘেরা বসার জায়গা। খাবারের দোকানেও মিলবে কাঁকড়া ফ্রাই, শুঁটকি, মাছের ভর্তা কিংবা ডাবের পানি।