শিরোনাম

ঢাকা, ৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও ডেঙ্গুমুক্ত নগরীতে রূপ দিতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেছেন, ‘সবাই মিলে কাজ করলে আগামী ছয় মাসেই বদলে যাবে ঢাকা শহর।’
আজ ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে একযোগে আয়োজিত প্রথম ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যয়েরই প্রতিফলন দেখা গেছে।
প্রতি মাসের প্রথম শনিবারকে ‘ক্লিনিং ডে’ ঘোষণা করার পর এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক আয়োজন। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রতিটি অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা (আনিক) সরাসরি মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করেন। এতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত প্লট মালিকরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। নিজ নিজ আঙিনা, ভবন, রাস্তা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রমে তাদের দিনব্যাপী অংশগ্রহণ দেখা যায়।
সকালে রাজধানীর মালিবাগ এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আধুনিক অন্তর্র্বর্তীকালীন বর্জ্য হস্তান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। এ সময় তিনি বলেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। নাগরিকদের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকলে ঢাকা একটি আধুনিক ও সবুজ নগরীতে পরিণত হবে।
প্রশাসক জানান, প্রতি মাসের প্রথম শনিবার রাজধানীর প্রতিটি বাড়ি, বাজার, আবাসিক এলাকা, মসজিদ ও মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে। পাশাপাশি সরকারি অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহও প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অফিস চলাকালীন যে কোনো একদিন এ কর্মসূচিতে অংশ নেবে।
রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্কাউট, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের সদস্যদের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এডিস মশার বিস্তার রোধে বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব ও আঙিনায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই।
তিনি আরো জানান, কলাবাগান ও মালিবাগের মতো পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সব সেকেন্ডারি বর্জ্য হস্তান্তর কেন্দ্রকে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত করা হবে।
ডিএসসিসির কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত ‘ক্লিনিং ডে’ পালন ও নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজধানীতে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে ইতিবাচক সামাজিক চর্চা গড়ে উঠবে এবং ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা বাস্তবায়নে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।