বাসস
  ০২ মে ২০২৬, ২৩:৩৭

সঠিক তথ্য দিয়েই গুজব ও অপতথ্য রুখতে হবে : প্রধান তথ্য কর্মকর্তা

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ২ মে, ২০২৬ (বাসস) : তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (গ্রেড-১) সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেছেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্বাধীন গণমাধ্যমের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘অপতথ্য’ বা ডিস-ইনফরমেশন।

তিনি বলেন, ‘তথ্যের এই গোলকধাঁধায় সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য পরিবেশনই হতে পারে গুজব প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার।’

আগামীকাল রোববার ৩ মে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সৈয়দ আবদাল আহমদ তার প্রবন্ধে বলেন, অপতথ্য ও গুজব বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। 

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের জন্য এটি বিশ্বের এক নম্বর স্বল্পমেয়াদি ঝুঁকি।

তিনি জানান, তথ্য অধিদপ্তরের গবেষণা উইংয়ের তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ১৮টি ভিত্তিহীন খবরের ঘটনা চিহ্নিত হয়েছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও মূলধারার সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বা আরএসএফ-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সৈয়দ আবদাল আহমদ জানান, ১৮০টি দেশের মধ্যে মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে আগামীতে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের আরও উন্নতি হবে।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘বিগত স্বৈরশাসনের ১৫ বছরে গণমাধ্যম প্রচণ্ড রোষানলের শিকার হয়েছিল, যা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতা এখন পুনরুদ্ধারের পথে।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করে সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা ভিডিও খালি চোখে চেনা প্রায় অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং প্রতিটি মিডিয়া হাউসে নিজস্ব ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ উইং থাকা জরুরি।

রিউমার স্ক্যানার বা ডিসমিসল্যাব-এর মতো ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, গণমাধ্যম হলো সমাজের দর্পণ। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই হলো একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার রক্ষাকবচ। যেখানে গণমাধ্যম স্বাধীন নয়, সেখানে জবাবদিহি প্রায় মৃত। সুশাসনের শর্ত পূরণে গণমাধ্যমকে ভয়হীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে।

সেমিনারে বিএফইউজে ও ডিইউজে-এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বক্তারা স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন।