শিরোনাম

খুলনা, ২ মে, ২০২৬ (বাসস) : খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেছেন, খুলনা আজ এক মৃতপ্রায় শিল্পনগরী। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে খুলনার কলকারখানাগুলো বন্ধ করে তাদের দোসরদের হাতে তুলে দিয়েছিল। তারা কারখানার মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও গাছপালা লুটপাট করে বিক্রি করে দিচ্ছে। আর শ্রমিকরা আজ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
মহান মে দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে খুলনা মহানগর শ্রমিক দল আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মে দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে শফিকুল আলম মনা বলেন, ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে যে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্বজুড়ে মে দিবস পালিত হচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বাংলাদেশে শ্রমিকদের কোনো অধিকার ছিল না। অনেক শ্রমিক তাদের পাওনা টাকার দাবিতে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করছেন।
খুলনার শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, খুলনার সকল বন্ধ কলকারখানা পুনরায় খুলে দেয়া হবে। এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা অচিরেই বাস্তবায়ন করা হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা উল্লেখ করে মনা বলেন, শহীদ জিয়া নিজেকে একজন শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন। তিনি বলতেন, আমি একজন শ্রমিক এবং শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তাঁর সেই আদর্শ লালন করেই আমরা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।
সমাবেশে মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. মজিবর রহমানের সভাপতিত্ব করেন।
সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফীর সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু, হাসানুর রশিদ চৌধুরী মিরাজ, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, হাবিব বিশ্বাস, আব্দুল আজিজ সুমন, রবিউল ইসলাম রুবেল, মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তি, সৈয়দা নার্গিস আলী, হালিমা খাতুন, সজীব তালুকদার, জাকির ইকবাল বাপ্পি, বিপ্লব রহমান কুদ্দুস, শ্রমিক দল নেতা সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, জিএম মাহবুবুর রহমান, কাজী শহিদুল ইসলাম, মোল্লা আকরাম হোসেন, রাহুল চিশতি, মিজান শিকদার, জেয়াদুল ইসলাম ও বদিউজ্জামান প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফেরিঘাট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।