শিরোনাম

কিশোরগঞ্জ, ২ মে, ২০২৬ (বাসস) : টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের প্রভাবে কিশোরগঞ্জের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একটি পয়েন্টে পানি কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে জেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
শনিবার সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে বাসস’কে জানানো হয়, ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.০৬ মিটার, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ সেন্টিমিটার বেশি। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৭৩ মিটার, বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৪৫ মিটার, যা ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কিছুটা কমে ১.৮০ মিটারে দাঁড়িয়েছে, যা গতকালের তুলনায় ৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, সবক’টি নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১০৯ থেকে ৪শ’সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
তবে উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে হাওরাঞ্চলের ফসলের আরও ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ইতোমধ্যে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। ফলে ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা। গতকাল রোদ থাকলেও আজকে সকাল থেকে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে খলায় রাখা ধান শুকাতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ধান শুকাতে না পারলে ধানে পচন ধরবে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বাসস’কে বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এর আগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বাসস’কে জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের তথ্যমতে ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমতে পারে।