বাসস
  ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০১

হামের টিকা পেয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ শিশু

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : হামের প্রার্দুভাব মোকাবিলায় সারাদেশে চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত দেশের ১ কোটি ২১ লাখ ৬২ হাজার ৯০৬ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দিয়েছে সরকার। তবে, সারাদেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
  
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাম-রুবেলার টিকার সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগে ৭ লাখ ১১ হাজার ৭৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯০৮ জন, ঢাকা বিভাগে ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৪  জন, খুলনা বিভাগে ১০ লাখ ৯৯ হাজার ৬১২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯ লাখ ২৩ হাজার ১৫৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯ জন, রংপুর বিভাগে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ২৩৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ৮ লাখ ৭৯ হাজার ১৯০ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। 

এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় বরিশাল সিটি করপোরেশনে ৩৫ হাজার ৮৭৬ জন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৯৫ জন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ৪৫ হাজার ৬৪৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭০৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৩ জন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ১ লাখ ৩ হাজার ৪০৬ জন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ৬৫ হাজার ৭৮৪ জন, খুলনা সিটি করপোরেশনে ৬৮ হাজার ৪২৯ জন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে ৪৪ হাজার ৯৯৭ জন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ৪৩ হাজার ২১৩ জন, রংপুর সিটি করপোরেশনে ৫৩ হাজার ৯৭১ জন এবং সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪৪ হাজার ৯৭ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা নিয়েছে।

গত ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। ইতোমধ্যেই এই ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শেষ হয়ছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় ১২ এপ্রিল থেকে গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। সর্বশেষ তৃতীয় দফায় ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি ছাড়া বাকি দিনগুলোতে সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত চলছে এই কার্যক্রম। দেশের ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় টিকা দিচ্ছে সরকার।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা যখন হামের টিকা হাতে পেয়েছি, নির্ধারিত সময়ের জন্য আর অপেক্ষা করিনি। আমরা ২০ এপ্রিল থেকেই টিকা দেওয়ার কাজ শুরু করেছি।

টিকাদানের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশের বেশি আমরা কাভার করে নিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ টিকা দেওয়া হয়ে গেছে। সরকার সঠিক সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশে হামের প্রকোপ কিছুটা কমেছে। আশা করি দ্রুতই হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসস-কে বলেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ শিশু হাম-রুবেলার টিকা নিয়েছে। কোনো শিশুকেই টিকার বাইরে রাখা হবে না। যে সকল জায়গায় শতভাগ টিকা দেওয়া হয়েছে, সে সকল এলাকায় ইতোমধ্যেই হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। 

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ জানান, সারাদেশে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেওয়া হবে। দেশব্যাপী এই বিশেষ ক্যাম্পেইন সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ মে পর্যন্ত এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ১২ মে পর্যন্ত চলবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতা অনেক বেশি। সাধারণত ক্যাম্পেইন শুরুর দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রাদুর্ভাব কমতে দেখা যায়। ঠিকমতো টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হলে প্রাদুর্ভাব থাকবে না, আশা করা যায়। মহামারি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব কাজ সরকার করছে বলেও জানান তারা।