শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানীর ঐতিহাসিক ও ব্যস্ততম এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রখ্যাত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আল্লামা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুরের স্মৃতি সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।
আজ (রোববার) এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর সড়ক’-এর শুভ উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
বঙ্গবাজার মোড় থেকে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত প্রায় ৫৩০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি এতদিন ‘ফিনিক্স রোড’ নামে পরিচিত ছিল। নতুন নামফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে সড়কটির আনুষ্ঠানিক নামকরণ সম্পন্ন হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়কের দু’পাশে উপস্থিত সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও ধর্মপ্রাণ জনগণের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আল্লামা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী ছিলেন দেশের একজন বিশিষ্ট আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং সমাজে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অনস্বীকার্য।
তিনি আরও বলেন, 'এমন একজন গুণী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের স্মরণে সড়কের নামকরণ করা আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়। তার জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা ও মানবিকতার পথে উদ্বুদ্ধ করবে।'
প্রশাসক জানান, স্থানীয় ধর্মীয় নেতা ও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এবং সুপারিশের প্রেক্ষিতে এই নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি ও দিকনির্দেশনায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন প্রশাসক।
তিনি বলেন, এডিস মশার বিস্তার রোধে সবার সম্মিলিত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির আশপাশ, ছাদ, ফুলের টব বা অন্য কোনো স্থানে যেন পানি জমে না থাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
মশক নিধন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, কার্যকর ও অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে নতুন ফগার মেশিন সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বর্তমান প্রশাসন জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সবার কল্যাণ কামনা করা হয়।