শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : স্মৃতিচারণ ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে ধানমন্ডি লেকে ‘গার্ডেন অব মেমোরি’ শীর্ষক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ঢাকার রাশিয়ান হাউস।
আজ শনিবার এখানে রুশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গার্ডেন অব মেমোরি’ রাশিয়ায় শুরু হওয়া একটি আন্তর্জাতিক স্মারক উদ্যোগ, যার উদ্দেশ্য মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধ (১৯৪১-১৯৪৫)-এ নিহতদের স্মরণ করা।
এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর রাশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাছ রোপণ করা হয়। এতে যুদ্ধের প্রতিটি প্রাণহানির স্মরণে একটি করে গাছ রোপণের পাশাপাশি পরিবেশগত স্থায়িত্বও উৎসাহিত করা হয়।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে রাশিয়ার দূতাবাসের মিনিস্টার-কাউন্সেলর ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকার রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয় এবং সোভিয়েত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এসএএবি)’র সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে খেল্ভনয় ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন দেশ ও প্রজন্মের মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সেন্টিউরিন ১৯৪৫ সালের ৯ মে’র গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় অর্জিত হয়েছিল।
সমাবেশে বক্তব্যে আব্দুস সালাম এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সবুজ ভবিষ্যৎ গড়তে আগামী পাঁচ বছরে সরকার ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, নগর এলাকায় সবুজায়ন বাড়াতে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সিটি করপোরেশন ৩ লাখ গাছ রোপণের পরিকল্পনা করেছে।
বক্তারা বলেন, ‘গার্ডেন অব মেমোরি’ শুধু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিহত বীরদের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন নয়, এটি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জনগণের বন্ধুত্বের প্রতীক এবং পরিবেশ সুরক্ষায় যৌথ দায়িত্ববোধেরও স্মারক।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ধানমন্ডি লেকে বিশিষ্ট অতিথিদের অংশগ্রহণে চারা রোপণ, যা বৈশ্বিক ‘গার্ডেন অব মেমোরি’ আন্দোলনে নতুন সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।