শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিশেষ তহবিল গঠন, কর রেয়াত, সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছেন উইমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব)।
আজ রাজধানীর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ওয়েব সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল।
নাসরীন ফাতেমা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশ, রাজস্ব কাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সীমাবদ্ধতার কারণে নারী উদ্যোক্তারা এখনো নানামুখী সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।
বর্তমান সরকার নারীবান্ধব হওয়ায় নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংগঠনটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
সংগঠনটির প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে— নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে বিশেষ তহবিল গঠন ও বরাদ্দ, নারী নেতৃত্বাধীন স্টার্টআপ, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিশেষ প্রণোদনা, গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু এবং স্টার্টআপ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদি সহজ শর্তে ঋণ প্রদান।
এছাড়া, নারী উদ্যোক্তা পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের জন্য কর রেয়াত সুবিধা বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট টার্নওভার পর্যন্ত আয়করে বিশেষ ছাড়, ভ্যাট নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও কোম্পানি নিবন্ধনে ফি হ্রাস এবং সরকারি ক্রয়ে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নির্দিষ্ট সংরক্ষিত অংশ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
প্রস্তাবে আরো বলা হয়, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্স ও ডিজিটাল মার্কেটিং সহায়তা তহবিল গঠন, ডিজিটাল স্কিল, ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি গ্রহণে অনুদান বা ম্যাচিং গ্রান্ট সুবিধা চালু করতে হবে। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, বাজেট বাস্তবায়ন মনিটরিং কাঠামো গঠন, বিশেষ এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু এবং ঋণের সুদে প্রণোদনা দেওয়ারও দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংগঠনটি নারীদের করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করার পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য, যেমন হস্তশিল্প ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য কিংবা সেবাখাতে ভ্যাট ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
এছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন রপ্তানিমুখী শিল্পের সংখ্যা বাড়াতে সব ধরনের রাজস্ব সুবিধা প্রদান, এসব সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক ভ্যাট কমিশনারেট ও পৃথক আয়কর জোন প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আজকের এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
এসময় তিনি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ করব্যবস্থা চালু, ভ্যাট প্রক্রিয়া সরলীকরণ, অনলাইন সেবা সম্প্রসারণ এবং বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি জোরদারের আশ্বাস দেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নারীদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশ নারী হওয়ায় তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিষয়ে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেবে এনবিআর। অনলাইন ও সরাসরি— উভয় মাধ্যমেই এসব প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে।
নারী উদ্যোক্তা সংগঠনগুলোকে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি প্রশিক্ষণ ক্যালেন্ডার তৈরি করে এনবিআর-এর সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান জানান তিনি।