বাসস
  ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০৮
আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫৬

সরকারি পদক্ষেপে ছোট হয়ে আসছে জ্বালানি তেলের লাইন

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে মোটরবাইক চালকদের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালুর পর রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি নিতে যানবাহনের সারির দৈর্ঘ্য কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পাম্প অপারেটররা।

উত্তরা এলাকার এক পেট্রোল পাম্প মালিক বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে প্রখর রোদের মধ্যে অকটেন ও পেট্রোলনির্ভর যানবাহন, বিশেষ করে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি আতঙ্কের সঙ্গে দেখেছি। এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো, অনেক সময় পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি নেওয়ার চাপে সরবরাহ ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। এতে মানুষকে মরুভূমিতে পানির খোঁজে থাকা তৃষ্ণার্ত মানুষের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

মেঘনা মডেল পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টারের অপারেটররা জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো এবং দুই দিন আগে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালুর ফলে যানবাহনের সারির দৈর্ঘ্য ও অপেক্ষার সময় অনেক কমেছে।

একই স্টেশনে কথা বলা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক বলেন, ‘লাইনের দৈর্ঘ্য কমেছে, ফলে অপেক্ষার সময়ও কমেছে।’

তিনি জানান, কয়েকবার তাকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। ভাগ্য ভালো থাকলেও অপেক্ষা তিন ঘণ্টার কম হয়নি।

মতিঝিলের সিটি ফিলিং স্টেশনে বাসসকে মোটরসাইকেল চালক সুলতান মিয়া বলেন, তার জ্বালানি পাওয়ার অপেক্ষার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তিনি বলেন, ‘আগে তেল নিতে প্রায় ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, আজ দুই ঘণ্টায় পেয়েছি।’

রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে বাসসের প্রতিবেদক দেখেছেন, অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ ও লাইনের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ায় পাম্প অপারেটর ও যানবাহন চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

এদিকে বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, তারা রাষ্ট্রীয় বিপণন কোম্পানিগুলোকে ২০ এপ্রিল থেকে দেশের সব ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেন সরবরাহ ২০ শতাংশ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

দুই দিন আগে জ্বালানি বিভাগ রাজধানীর সাতটি নির্ধারিত ফিলিং স্টেশন থেকে মোটরসাইকেল চালকদের জ্বালানি নিতে বাধ্যতামূলক ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু করে। কারণ, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারিই লাইনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছিল।

বাসসের ওই প্রতিবেদক, যিনি নিজেও একজন মোটরসাইকেল চালক, জানান আসাদগেট, আরামবাগ ও তেজগাঁওয়ের ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলের সারি দুই দিন আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

এক পেট্রোল পাম্প মালিক অভিযোগ করেন, চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল চালকেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটজনিত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

তিনি বলেন, মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যদিও সরকার বারবার সংকট মোকাবিলার আশ্বাস দিয়ে আসছে।

পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বাসসকে বলেন, সরকার প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করছে।

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল আমরা ৭৫ শতাংশ বেশি তেল সরবরাহ করব, যাতে ক্রেতারা সহজে ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নিতে পারেন।’

সরকার জ্বালানি রেশনিং ও মোটরসাইকেল চালকদের নিয়ন্ত্রণে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ মোবাইল অ্যাপও চালু করেছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও এ ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত সুফল মিলেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে জ্বালানির অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে জ্বালানি বিভাগ সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে।