শিরোনাম

ঢাকা, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম ১৯৬২ সালে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নু ও হুরন নাহার রশিদের জ্যেষ্ঠ কন্যা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর পিতার প্রতিষ্ঠিত মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।
রাজনৈতিক জীবনে আফরোজা খানম দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায় থেকে সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তার মরহুম পিতা হারুনার রশিদ খান মুন্নু মানিকগঞ্জের জননন্দিত নেতা। তিনি চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী।
২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে আফরোজা খানমের পিতা মানিকগঞ্জ-২ ও ৩ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তিনি পিতার নির্বাচনি প্রচারণায় প্রধান সমন্বয়কারীর ভূমিকায় অংশ নিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পিতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা তাকে সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয় এবং সেখান থেকেই তিনি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন।
২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আফরোজা খানম মানিকগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হন এবং একই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম, নারী উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে আসছেন। তিনি বাংলাদেশের একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সফল ব্যবসায়ী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবী।
ব্যবসায়ী কর্মকা-ের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে পিতার প্রতিষ্ঠিত মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুন্নু নার্সিং ইন্সটিটিউট, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষা বিস্তার, স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ এবং ২০১৫ সালে তাকে সিআইপি হিসেবে মনোনীত করে।
ব্যক্তিগত জীবনে আফরোজা খানম তিন পুত্র সন্তানের জননী। পেশাগত ও রাজনৈতিক জীবনের নানাবিধ ব্যস্ততা সত্ত্বেও তিনি পারিবারিক জীবনে একজন স্নেহময়ী মা এবং সহধর্মিণী হিসেবে দায়িত্বশীল ও সফল ভূমিকা পালন করে চলেছেন। পরিবার ও সমাজ উভয় ক্ষেত্রেই তিনি সমান আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে আসছেন।
জনসেবা ও মানবকল্যাণকে তিনি তার জীবনের অন্যতম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং দেশের উন্নয়ন ও মানুষের সার্বিক কল্যাণে নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।