বাসস
  ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১

কর্মজীবী নারীর গর্ভকালীন সাজ-পোশাক

প্রতীকী ছবি

ঢাকা, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : লজ্জা হলো নারীর ভূষণ। সৌন্দর্য হলো তার অলংকার। নারী চিরকালই সুন্দরের পূজারি, সুন্দরের সাধক। সুন্দরের মাঝে তারা সুখ খোঁজেন পরম আপন করে। নিজের মনের মতো করে। কিন্তু বিশেষ কিছু সময় আসে, যখন নারীর সুন্দরের হানি হয়। সুন্দরের মাঝে অসুন্দর এসে ভর করে। এই অসুন্দর প্রত্যাশিত। প্রতিটি নারী জীবনেই আসে এবং আসবে।

নারী মায়ের জাতি। মা হতে হলে তাকে অনেক কষ্ট-যন্ত্রণা, ঘাত-প্রতিঘাত, সহ্য করে দশ মাস সময় অতিক্রম করতে হয়। তারপর মা হওয়া দীর্ঘ সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়। 

এ দীর্ঘ দশ মাস কর্মজীবী নারীর বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। মাতৃত্বের শুরু তথা গর্ভধারণের পর থেকে তার প্রয়োজন বিশেষে যত্ন ও পরিচর্যার। খাবার-দাবার, হাঁটা-চলা ইত্যাদির বাইরে পোশাক-পরিচ্ছেদের ওপর যথেষ্ট নজর দিতে হবে। নজর দিতে হবে সাজ-সজ্জার ব্যাপারেও। বর্তমানে এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নারী ঘরে বসে নেই। তারা লেখা-পড়া, খেলাধুলা, কর্মদক্ষতা, মেধা ও মননশীল প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন প্রতি পদে পদে। ঘরের বাহিরে কোনো ক্ষেত্রেই এ মমতাময়ী নারী পিছিয়ে নেই। তাকে ঘর সামলাতে হচ্ছে। ছেলেমেয়ের লেখাপড়া দেখাশুনা করা, তারপর কর্মের প্রতি মনোনিবেশ। 

গর্ভাবস্থায় একজন নারীর দেহে পরিবর্তন আসে, এটাই স্বাভাবিক। আসে চেহারায় পরিবর্তন। চোখের নিচে কালি পড়া, নাকটা একটু ফুলে যাওয়া এবং ঘাড়ে কালো ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। কারো কারো মুখে ওঠে ছোট ছোট গোটা, চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়। এতকিছুর পরও তাকে ঘরের বাহির হতে হয়।

একজন কর্মজীবী নারীকে তো বের হতেই হয়। অনেকেই আছেন যারা গর্ভকালীন পোশাক এবং সাজ-সজ্জা নিয়ে খুব ঝামেলায় পড়েন। কিছু কিছু কাজ আছে যেগুলো করলে এসব ঝামেলা থেকে একজন কর্মজীবী গর্ভবতী নারী পেতে পারেন পরিত্রাণ।

ক) গর্ভবতী মায়েরা সাজবার পূর্বে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে নিন। তারপর লোশন দিন। পরিবেশ বুঝে নিজেকে সাজিয়ে নিন পরিচ্ছন্নভাবে। এবার চাইলে হালকা করে পাউডার মুখে দিতে পারেন। তবে কমপ্যাক্ট পাউডার নয়।

খ) চোখের নিচে যদি অতি মাত্রায় কালি পড়েই যায় তবে হালকা করে কনসিলার চোখে ব্যবহার করতে পারেন। তবে তা যেন অল্প সময়ের জন্য লাগানো হয়।

গ) যাদের নাক একটু ফুলে গেছে বা নাকের পাশে কালো হয়ে গেছে, এটি ঢাকার জন্য মুখে কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না।

ঘ) যাদের মুখে গোটা উঠেছে, তারাও কিছু মাখবেন না, সিম্পল থাকার জন্য মনে রাখবেন- এ সময়ের সব কিছুতেই একটা আলাদা আনন্দ আছে। তাই এ সময়ের খুতগুলোকে রেখেই নিজেকে সাজিয়ে তুলুন চমৎকারভাবে।

ঙ) কখনো ভারি কিছু পরবেন না। গলায় হালকা ডিজাইনের অলংকার পড়ুন। হাতে কাচ ছাড়া অন্য ম্যাটেরিয়ালের চুড়ি পোশাকের সাথে মিলিয়ে পড়ুন।

চ) হালকা রঙের সুতির ঢোলা পোশাক পরবেন।

ছ) এ সময় প্রচুর ফল, দুধ, ভিটামিন জাতীয় খাবার খাবেন।

জ) পেট ফুলাকে ঢেকে রাখার জন্য শাড়ির আঁচল সামনের-দিকে ঝুলিয়ে রাখুন।

ঝ) হিল জুতা পরবেন না। সব সময় ফ্ল্যাট পরবেন।

ঞ) টেনশন করবেন না।

প্রথমত বমি বমি ভাব হতে পারে। মাথাব্যথা, অস্থিরভাব যাই হোক না কেন, তা সাময়িক। আস্তে আস্তে সেরে যাবে। যদি কোনো সমস্যা স্থায়ীভাবে হতে থাকে তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

সন্তান ধারণ প্রত্যেক নারীর জন্য আনন্দের ও গর্বের। এ সময় হরমোনজণিত বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যার জন্য বিশেষ কিছু করার দরকার হয় না। সন্তান জন্মের পর এ সমস্যা আর থাকে না। এমনিই দূর হয়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞের মতে, এ সময় মেয়েদের, বিশেষ করে নতুন মা হওয়া মেয়েদের সাবধানভাবে চলাচল করতে হয়। শরীরের প্রতি, খাওয়ার প্রতি, চলাফেরার প্রতি, পোশাক-আশাক ব্যবহারের প্রতি যথেষ্ট যত্নবান হওয়ার দরকার। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় ঢিলে-ঢালা সুতির পোশাক পরা, ফ্ল্যাট জুতা পরা এবং প্রসাধনী কম ব্যবহার করা উচিত। আর ভ্রমণের বেলায় খুবই সাবধান হওয়া ভালো। প্রথম তিন মাস এবং শেষের তিন মাস বাস, ট্রেন বা যেকোনো যানবাহনে ভ্রমণ এড়িয়ে চলা উচিত। আর সবজি, দুধ, ডিম অধিক পরিমাণে খাওয়া উচিত।

এবার আসা যাক চুল প্রসঙ্গে। চুল যদি আপনার ছোট হয় বা কাঁধ পর্যন্ত হয়, তবে সেক্ষেত্রে চুলটা ঘাড় থেকে উঠিয়ে উঁচু করে ফ্রেঞ্চনট করতে পারেন। আর যদি চুল বড় হয় তবে সামনে চুলটা টেনে নিয়ে একটা বেনী বা হাত খোঁপা করতে পারেন, কিংবা বেনী করে খোঁপা অথবা বিড়া খোপাও করতে পারেন। এছাড়া অল্প সময়ের জন্য যদি বাইরে যান, সে ক্ষেত্রে আপনার যদি ছোট চুল বা স্টেপ করা হয়, তবে আপনি চুলটা ছেড়ে যেতে পারেন। মনে রাখবেন, তা যেন অবশ্যই হয় অল্প সময়ের জন্য। কারণ এ সময় এমন কোনো সাজে নিজেকে সাজানো যাবে না, যাতে অস্বস্তি বোধ হয়। এই সময়ের সাজ হওয়া চাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং ছিমছাম। সাজ হয়ে গেলে পোশাকটা পরে আয়নায় নিজেকে দেখুন কেমন দেখাচ্ছে। নিজের মতো করে নিজেকে সাজান শালীন রুচিবোধ পোশাকে।