বাসস
  ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৪৪

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিতে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান মঈন খানের

বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। ফাইল ছবি

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, স্থায়ী শান্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রযুক্তি বিনিময় ও সক্ষমতা বাড়ানোসহ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

শুক্রবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় জানানো হয়, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে গত বৃহস্পতিবার ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৫২তম অধিবেশনে বক্তব্যকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

আইপিইউ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. মঈন খান। তিনি বলেন, কোনো দেশের পক্ষেই একা সবগুলো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। 

পাশাপাশি তিনি সাশ্রয়ী সহায়ক প্রযুক্তির প্রসার এবং কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

‘নার্চারিং হোপ, সিকিউরিং পিস অ্যান্ড এনশিউরিং জাস্টিস ফর ফিউচার জেনারেশনস’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্তই সমাজের সবস্তরের মানুষকে উন্নয়নের আওতায় আনা।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে চাইলে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে শুরু করতে হবে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে এই দেশের জন্ম হলেও পথচলা কখনও মসৃণ ছিল না।

ড. মঈন বলেন, ‘দীর্ঘ সংগ্রামে আমরা বারবার হোঁচট খেয়েছি, কিন্তু প্রতিবারই বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষ গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের পক্ষে জেগে উঠেছে।’

তিনি বলেন, সবাইকে উন্নয়নের আওতায় আনার জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থান খাতে সাধারণ মানুষের সুযোগ ও প্রবেশাধিকার বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে। 

এই প্রক্রিয়ায় তিনি জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন প্রণয়ন, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সংসদের কার্যকর তদারকি অত্যন্ত জরুরি।

ড. আব্দুল মঈন খান দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আইপিইউ কেবল মতবিনিময়ের জায়গা নয়, বরং এটি এমন এক অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম যেটি বাস্তব এবং কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে লাখো মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।’ 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

মঈন খান বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তি বা কাউকে উন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসা দাতব্য কাজ নয় বরং ন্যায়বিচার। আর ন্যায়বিচারই শান্তির ভিত্তি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রান্তিক গোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের মাপকাঠি দিয়ে একটি সমাজকে বিচার করা উচিত। পাশপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে সংখ্যালঘুর সম্মতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন।’

বক্তব্যের শেষে ড. মঈন খান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও বৈশ্বিক সম্প্রীতির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব  এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ একটি বিশ্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।